ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দোহায় হামাস নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের হামলা, কাতারের কঠোর নিন্দা

  • আলজাজিরা
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহরের আবাসিক এলাকা। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, এটি হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বিমান হামলা। এ ঘটনাকে “অভূতপূর্ব” আখ্যা দিয়ে কাতার বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এটি গুরুতর আঘাত।

প্রথমবার কাতারে ইসরায়েলের হামলা

ইসরায়েল প্রথমবারের মতো কাতারে হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাল। অথচ দেশটি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। হামলাটি সংঘটিত হয় ঠিক তখনই, যখন দোহায় হামাসের আলোচনাকারী দল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শান্তি চুক্তি নিয়ে বৈঠক করছিল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোপন সংস্থা শিন বেট এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব নেতা বছরের পর বছর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য সরাসরি দায়ী।

কাতারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, হামলাটি হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর কয়েকজন সদস্যের আবাসিক ভবনে চালানো হয়েছে। তিনি একে “অপরাধমূলক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতার ঘোষণা করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। সর্বোচ্চ স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দোহায় আতঙ্ক

আলজাজিরা প্রতিবেদক সুহাইব আল-আসা জানান, বিস্ফোরণের স্থানটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা এবং হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিশ্চিত করাই এখন প্রধান কাজ।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে প্রতিদিন হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দোহায় হামাস নেতৃত্বকে টার্গেট করা ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির গত ৩১ আগস্ট ঘোষণা করেছিলেন, “হামাসের অধিকাংশ নেতৃত্ব বিদেশে, এবং আমরা তাদের যেখানেই থাকুক, সেখানেই পৌঁছব।” দোহায় এই হামলাকে তাই অনেকেই তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যার সঙ্গে তুলনা করছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আলজাজিরার বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতারে হামলা চালানো কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে। নিদা ইব্রাহিমের মতে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ইসরায়েল “দণ্ডমুক্ত থেকে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

দোহায় হামাস নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের হামলা, কাতারের কঠোর নিন্দা

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহরের আবাসিক এলাকা। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, এটি হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বিমান হামলা। এ ঘটনাকে “অভূতপূর্ব” আখ্যা দিয়ে কাতার বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এটি গুরুতর আঘাত।

প্রথমবার কাতারে ইসরায়েলের হামলা

ইসরায়েল প্রথমবারের মতো কাতারে হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাল। অথচ দেশটি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। হামলাটি সংঘটিত হয় ঠিক তখনই, যখন দোহায় হামাসের আলোচনাকারী দল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শান্তি চুক্তি নিয়ে বৈঠক করছিল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোপন সংস্থা শিন বেট এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব নেতা বছরের পর বছর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য সরাসরি দায়ী।

কাতারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, হামলাটি হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর কয়েকজন সদস্যের আবাসিক ভবনে চালানো হয়েছে। তিনি একে “অপরাধমূলক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতার ঘোষণা করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। সর্বোচ্চ স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দোহায় আতঙ্ক

আলজাজিরা প্রতিবেদক সুহাইব আল-আসা জানান, বিস্ফোরণের স্থানটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা এবং হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিশ্চিত করাই এখন প্রধান কাজ।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে প্রতিদিন হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দোহায় হামাস নেতৃত্বকে টার্গেট করা ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির গত ৩১ আগস্ট ঘোষণা করেছিলেন, “হামাসের অধিকাংশ নেতৃত্ব বিদেশে, এবং আমরা তাদের যেখানেই থাকুক, সেখানেই পৌঁছব।” দোহায় এই হামলাকে তাই অনেকেই তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যার সঙ্গে তুলনা করছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আলজাজিরার বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতারে হামলা চালানো কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে। নিদা ইব্রাহিমের মতে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ইসরায়েল “দণ্ডমুক্ত থেকে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।”