ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কিডনি রোগে অসহায় খাজা মিয়ার জীবন সংগ্রাম

কিডনি রোগে অসহায় খাজা মিয়ার জীবন সংগ্রাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

দুটি কিডনির ৮০ শতাংশ নষ্ট নিয়ে জীবন যুদ্ধে শয্যাশায়ী খাজা মিয়া (৬০)। খাজা মিয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট কয়ারমারী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, ঢাকার নয়াপল্টনে ছোট্ট ভাড়া বাড়ীতে বসবাস করেন তিনি। পাঁচ-ছয় মাস আগেও তার একটি ছোট পানের দোকান ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগতে থাকায় এখন সেই দোকানটিও আর চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

খাজা মিয়ার স্ত্রী বানেসা খাতুন জানান, তিনি অফিসে অফিসে ভাত সরবরাহের একটি ছোট ব্যবসা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। মাস শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া মেটানোই কষ্টকর—চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি গরিব মানুষ, স্বামীর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই। শুধু ভাত বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার কোনোমতে চলে। স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমি সম্পূর্ণ অসহায়।” চিকিৎসকদের মতে, তার দুটি কিডনির ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ কাজ করছে। এ কারণে তিনি প্রায় সবসময় বিছানায় শয্যাশায়ী।

তার স্ত্রী বানেসা খাতুন আরও জানান, আমার ছেলেসন্তান নেই। শুধু একটা মেয়ে আছে। প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় আসি। হঠাৎ করেই স্বামীর অসুস্থতা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে খাজা মিয়ার আত্মীয় জাহিদ হাসান বলেন, “খাজা মিয়া আমার দুসম্পর্কের মামা। শুরু থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া থেকে শুরু করে ওষুধপত্রের ব্যবস্থা—সবই আমি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছেন।”

খাজা মিয়ার বাড়িওয়ালা মমতাজ বেগম লিমা জানান, তারা তার বাসায় ১৫-১৬ বছর ধরে ভাড়াটিয়া। তিনি বলেন, “খাজা মিয়ার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেন না। ফলে ভাড়াও দিতে পারছেন না। মানবিক কারণে আমি শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল নিচ্ছি, বাসাভাড়া নিচ্ছি না। তারা ভীষণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।”

অসুস্থ খাজা মিয়া বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি স্বহৃদয়বান ব্যাক্তিদের নিকট আর্থিক সাহায্য ও অনুদান চেয়ে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

বর্তমান ঠিকানা : ১৪৭/৩, নাসরিন ভবন,২য় তলা, ডি আই টি এক্সটেনশন রোড, ফকিরাপুল, ঢাকা।
অনুদান পাঠানোর মাধ্যম ব্যাক্তিগত বিকাশ ও নগদ নম্বর 01956618138

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

রূপগঞ্জের হোড়গাঁওয়ে মাদক কারবারি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

কিডনি রোগে অসহায় খাজা মিয়ার জীবন সংগ্রাম

কিডনি রোগে অসহায় খাজা মিয়ার জীবন সংগ্রাম

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দুটি কিডনির ৮০ শতাংশ নষ্ট নিয়ে জীবন যুদ্ধে শয্যাশায়ী খাজা মিয়া (৬০)। খাজা মিয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট কয়ারমারী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, ঢাকার নয়াপল্টনে ছোট্ট ভাড়া বাড়ীতে বসবাস করেন তিনি। পাঁচ-ছয় মাস আগেও তার একটি ছোট পানের দোকান ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগতে থাকায় এখন সেই দোকানটিও আর চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

খাজা মিয়ার স্ত্রী বানেসা খাতুন জানান, তিনি অফিসে অফিসে ভাত সরবরাহের একটি ছোট ব্যবসা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। মাস শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া মেটানোই কষ্টকর—চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি গরিব মানুষ, স্বামীর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই। শুধু ভাত বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার কোনোমতে চলে। স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমি সম্পূর্ণ অসহায়।” চিকিৎসকদের মতে, তার দুটি কিডনির ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ কাজ করছে। এ কারণে তিনি প্রায় সবসময় বিছানায় শয্যাশায়ী।

তার স্ত্রী বানেসা খাতুন আরও জানান, আমার ছেলেসন্তান নেই। শুধু একটা মেয়ে আছে। প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় আসি। হঠাৎ করেই স্বামীর অসুস্থতা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে খাজা মিয়ার আত্মীয় জাহিদ হাসান বলেন, “খাজা মিয়া আমার দুসম্পর্কের মামা। শুরু থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া থেকে শুরু করে ওষুধপত্রের ব্যবস্থা—সবই আমি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছেন।”

খাজা মিয়ার বাড়িওয়ালা মমতাজ বেগম লিমা জানান, তারা তার বাসায় ১৫-১৬ বছর ধরে ভাড়াটিয়া। তিনি বলেন, “খাজা মিয়ার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেন না। ফলে ভাড়াও দিতে পারছেন না। মানবিক কারণে আমি শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল নিচ্ছি, বাসাভাড়া নিচ্ছি না। তারা ভীষণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।”

অসুস্থ খাজা মিয়া বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি স্বহৃদয়বান ব্যাক্তিদের নিকট আর্থিক সাহায্য ও অনুদান চেয়ে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

বর্তমান ঠিকানা : ১৪৭/৩, নাসরিন ভবন,২য় তলা, ডি আই টি এক্সটেনশন রোড, ফকিরাপুল, ঢাকা।
অনুদান পাঠানোর মাধ্যম ব্যাক্তিগত বিকাশ ও নগদ নম্বর 01956618138