জামালপুরের বকশীগঞ্জে অতিরিক্ত বাস ভাড়া ফেরত দেওয়ার ঘটনায় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে আর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বাস মালিক সমিতি।
১৬ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) দুপুরে বকশীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ঢাকা থেকে অসংখ্য মানুষ বকশীগঞ্জে আসেন। ভোটদান শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় অসাধু বাস ব্যবসায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। ভুক্তভোগী যাত্রীরা এ বিষয়ে বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লবের কাছে অভিযোগ করলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং তার ছোট ভাই শ্রমিক লীগের সভাপতি ও কাইয়ুম সিন্ডিকেট সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিল। আমি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করায় ওই কুচক্রী মহলটি ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বিপ্লব বলেন, আমার বাবা মরহুম আব্দুর রশিদ ভুলু সওদাগর বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আমি নিজে উপজেলা যুবদলের সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৮টি রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছি। এমন প্রেক্ষাপটে আমাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি যতদিন মালিক সমিতির দায়িত্বে আছি, বকশীগঞ্জে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা যাত্রী হয়রানি হতে দেব না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, যাত্রীদের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে কোনো সৎ ব্যক্তি যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন, সেদিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপপ্রচার মোকাবিলা করার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী, নিজস্ব প্রতিনিধি 













