ঢাকা, শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : আগস্ট ৭, ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জে রাতে ভিক্ষুক গ্রেপ্তার সকালে বাড়ী দখল

অনলাইন ডেস্ক

 

স্টাফ রিপোর্টার।।সিদ্ধিরগঞ্জে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এক কাঠা জমিতে টিনসেট ঘরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন পঙ্গু সালাউদ্দিন ওরফে আব্দুর রহিম। জীবীকা নির্বাহ করতেন ভিক্ষা করে। ছলনার ফাঁদে পড়ে প্রতারণা মামলায় গত শুক্রবার গভীর রাতে সালাউদ্দিন (৫০) তার স্ত্রী রোকিয়া বেগম (৪৫) ও ছেলে মেহেদী হাসানকে (১৮) গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। সকালে বাড়ী দখল করে নেয় সমাজ কল্যাণ আদর্শ যুব সংগঠনের সভাপতি মো: রাজু প্রধান।

জানা গেছে, মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল ছামাদের ছেলে সালাউদ্দিন। হেঁটে হেঁটে বিক্রি করতেন জালমুড়ি। মোটরসাইকেলের নিচে পরে পা ভেঙে হয়ে যান পঙ্গু। শুরু করেন ভিক্ষা। স্ত্রী কাজ করেন অন্যের বাড়ীতে। বড় ছেলে এতিমখানায় দেখে হয়েছেন কুরআনের হাফেজ। কিছুদিন ধরে ছোট ছেলে কাজ নিয়েছে গার্মেন্টসে।

সালাউদ্দিনের ভাবী মাসুদা বেগম জানান, একই এলাকার বশীর উদ্দিন প্রধানের ছেলে “মিজমিজি বাতানপাড়া সমাজ কল্যাণ আদর্শ যুব সংগঠস” (মাদক ব্যবসায়ী ও রিকশা চালকদের নিয়ে গঠিত) এর সভাপতি রাজু প্রধান ছলনা করে ১৫ লাখ টাকা দাম ধরে গত ৯ জানুয়ারি সালাউদ্দিনের বাড়ী ভিটা সাফ কবলা দলিল মূলে কিনে নেয়। দলিল রেজিষ্ট্রি করার সময় নগদ দেড় লাখ টাকা দিয়ে বাকী টাকা পরে দিবার কথা বলে। সব টাকা না পেয়েও সরল বিশ্বাসে সালাউদ্দিন রেজিষ্ট্রারের সামনে টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। দলিল রেজেষ্ট্রির পর টাকা চাইলে রাজু প্রধান সুর পাল্টিয়ে বলে টাকা আগেই দিয়ে দিয়েছি। তখন বাড়ীর দখল না ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেন সালাউদ্দিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজু লোকজন নিয়ে ৯ এপ্রিল সালাউদ্দিনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখম করেন। রাজুর বিরুদ্ধে মারধরের আরেকটি মামলা হয়। এনিয়ে একাধিক গ্রাম্য সালিশ হলে রাজু প্রধান বাড়ী-ভিটা ফিরিয়ে দিতে রাজি হলেও গোপনে সালাউদ্দিন, তার স্ত্রী রোকিয়া বেগম ও ছেলে হাফেজ মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রতারণার মামলা করেন। সালাউদ্দিন তা জানতে পারেনি। আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেলে সকালে রাজু প্রধান লোকজন নিয়ে সালাউদ্দিনের ছোট ছেলে সুমন (১৬) ও মেয়ে খদিজাকে (৮) বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়।

প্রতিবেশী ইসহাক বলেন, দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার পর পরিবারটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায় এলাকার বিত্তবানরা। বাউন্ডারি দেওয়াল, একটি গেইট ও টিনসেট ঘর নির্মাণ করে দেন। আদমজী ইপিজেডের সামনে বসে ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন সালাউদ্দিন। তার উপর চরম জুলুম করা হয়েছে। অন্তত ৩০ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ী-ভিটা ১৫ লাখ টাকায় কিনেছে। তাও টাকা না দিয়ে। এনিয়ে কয়েকদফা সালিশী বৈঠক বসেছিলাম। সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে দিয়েও পরে মত পাল্টায় রাজু। মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারটিকে জেলে পাঠিয়ে বাড়ী দখল করেছে। একজন ভিকারীর সঙ্গে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক।

রাজু প্রধান বলেন, নগদ ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ী কিনেছি। আমাকে বাড়ীর দখল বুঝিয়ে না দিয়ে দলিল বাতিলসহ আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে সালাউদ্দিন। আমিও তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে। যার ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আমি আমার বাড়ীর দখল বুঝে নিয়েছি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আদালতের পরোয়ানা তামিল করতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। দোষ গুণ বিচার করবে আদালত।


আপনার মন্তব্য