সিদ্ধিরগঞ্জে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা লুট


Munna প্রকাশের সময় : ০৭/০৮/২০২৩, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ /
সিদ্ধিরগঞ্জে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা লুট

সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা :নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিমাই কাশরীর হক প্লাজা সানারপাড় এলাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে সাধারণ গ্রাহকের কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এই শাখার মালিক আনোয়ার হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন ওই শাখার ইনচার্জ ওমর ফারুক গ্রাহকের ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।

এদিকে এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রাহকরা জমাকৃত টাকা উত্তলনের জন্য এজেন্ট শাখায় এসে জমায়েত হতে থাকে। গ্রাহকরা ব্যাংক হিসাব চেক করে দেখেন অধিকাংশ হিসেবে কোন টাকা জমা হয় নাই। তাদের অভিযোগ এই শাখার মালিক আনোয়ার হোসেন শাখার ইনচার্জ ওমর ফারুকের উপর দোষ চাপালেও এ ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেই ঢাকা দিয়েছেন।
এজন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রর গ্রাহক মিজানুর রহমান বলেন, আমি বিসাশ্ব করে এই এজেন্ট কেন্দ্র সেভিং একাউন্ট ৩০ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম, এখন দেখি আমার একাউন্টে কোন টাকা জমা নাই। এই গ্রাহক কাঁদো কাঁদো কন্ঠ বলে আমার সব শেষ হয়ে গেছে আমি এখন কি করবো। আমার এতা কষ্টের টাকা কি করে ফেরত পাবো? ও বলে ওখানে যাও সে বলে ওখানে যাও কোথায় গেলে আমার টাকা ফেরত পাবো। এতা দিন ধরে ওরা আমাকে ভূয়া চেক ধরিয়ে দিয়ে টাকা লেনদেন করেছে।
নিমাই কাশারী বাসিন্দা বিবি মরিয়ম এই এজন্ট ব্যংকিং কেন্দ্রর এক জন গ্রাহক সে বলে, এই এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রর মালিক আনোয়ার হোসেন এবং ইনচার্জ ওমর ফারুক হোসেন এই দুই জন মিলে আমাদের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন ওরা নতুন করে নাটক সাজিয়েছে সে বলে ও টাকা নিয়েছে আর ও বলে টাকা নিয়েছে। এই এজন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রর মালিক এবং ইনচার্জ ওরা দুইজনে আত্নীয়। যারা আমাদের টাকা নিয়ে প্রতারণা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং সুষ্ঠ বিচার করা হক। শুধু আমারা টাকা আমার মতো আরো সাধারণ গ্রাহক আছে তাদের টাকা প্রতারণার মধ্যে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে দুই জনে মিলে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র আরো ভূক্তভোগী শিকার হল, মদিনা ট্যাংক এলাকার বাসিন্দ মো. নায়েব আলী এর ৫ লাখ টাকা, মনু মিয়া এলাকার বাসিন্দ মোসা. নিলুফা ইয়াছমিন এর ৩০ লাখ টাকা, নিমাই কাশারী আরেক বাসিন্দা মোসা, শারমিন আকতারের ২২ লাখ টাকা, পশ্চিম সানারপাড় স্থানীয় বাসিন্দা মোসা, সোলনা বেগমের ৬ লাখ টাকা, পশ্চিম বক্স্র নগরের বাসিন্দা মোসা.ময়না খাতুনের ৫৬ হাজার টাকা, সানারপাড় এলাকার লন্ডন মার্কেট বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ৩০ লাখ টাকাসহ আরো সাধারন গ্রাহকের ভুয়া মেসেজ ভূয়া চেকের মধ্যে দিয়ে প্রতারণা করে আনোয়ার হোসেন এবং ওমর ফারুক হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা ।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রর মালিক আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমার এজন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রর ইনচার্জ ওমর ফারুককে দায়িত্ব দিয়ে হজ্বে গিয়েছিলাম। আমি হজ্ব থেকে এসে তার কাছে হিসাব চাই সে হিসাব নিয়ে তালবাহনা করে। পরে কয়েকদিন ধরে আফিসে আসে না,তার বাসায় তালা বন্ধ। তাকে খোঁজাখুজি করি, তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি তার এই ব্যাপারে গত ৩ আগষ্ট একটি সাধারন ডায়েরী করি। এর কিছু দিন পরে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১কোটি ৩৩ লাক্ষা টাকার অভিযোগ করি। তাকে ধরার জন্য আমরা সব চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক এসআাই মো.হুমায়ুন বলেন, এই ব্যাপরে প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরী হয় এবং কিছু দিন পরে আরেক একটি অভিযোগ হয়। তবে অভিযোগর বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রর সাধারন গ্রাহকের টাকা প্রতারণার মাধ্যেমে হাতিয়ে নেওয়ার একটি অভিযোগ আসছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।