সিদ্ধিরগঞ্জের আউলাবন এলাকায় একটি সন্ত্রাসী চক্রের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন যুবক আহত হওয়ায় ভুক্তভোগী জাকির হোসেন বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও অজ্ঞাত ৬–৭ জনকে আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলো: সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের আউলাবন এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে আসলাম (৩৫), একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে মো: হীরা (২১), হেলাল ওরফে হেলুর ছেলে আশিক (২০) এবং হেলালের স্ত্রী আমেনা (৪৫)।
এ ঘটনায় আহতরা হলো: জাকির হোসেনের বড় ছেলে মো: শরীফ (২৬), ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম (২০) এবং তার বোন ফতে (৪০)।
অভিযোগে ভুক্তভোগী মো: জাকির হোসেন উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী, দাঙ্গাবাজ, চাঁদাবাজ এবং উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। তারা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউই কিছু বলতে সাহস পায় না। তারা এলাকার যুবকদের নানা প্রলোভনে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায় করে। তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়ামকে দীর্ঘদিন ধরে ফাঁদে ফেলে তার ও তার পরিবারের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে।
অভিযুক্ত আসলাম গত ৮ মাস আগে তার ছেলেকে ছলচাতুরির মাধ্যমে বাসায় ডেকে নিয়ে যান এবং তার স্ত্রীর সাথে যৌন আকাঙ্খা পূরণের প্রস্তাব দেন। তার ছেলে এরূপ আচরণে তৎক্ষণাৎ বাসা থেকে কৌশলে চলে এসে তাকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের আউলাবন এলাকায় জাইফা এন্টারপ্রাইজ নামে তার একটি চাউলের আড়ৎ আছে। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আসলাম উক্ত ঘটনার জেরে চাউলের আড়তের সামনে এসে তাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে মানাহানী করার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা প্রদানে অক্ষমতা প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা যেকোন সময় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের গুম, খুন বা হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি বিজ্ঞ আদালতে ২টি মামলা দায়ের করেছেন (সি আর মামলা নং- ৪১৪/২০২৫, ৪১৭/২০২৫)।
মামলা দায়েরের পর তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। তারই জের ধরে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার পাওয়ার জিমে ব্যায়াম করার জন্য যাওয়ার সময় অভিযুক্ত আসলাম, হীরা ও আশিকসহ অজ্ঞাত ৫–৬ জন সন্ত্রাসী কালো রঙের একটি হাইয়েস গাড়ি দিয়ে তার ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় পাশের লোকজন এগিয়ে আসায় তারা পালিয়ে যায়।
অভিযোগে জাকির হোসেন আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র—ছুরি, রামদা, কাঠের ডান্ডা, লাঠি-সোটা হাতে নিয়ে তার উপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করে। এসময় তার ছেলে আহত হয়। ডাকচিৎকারে তিনি, বড় ছেলে শরিফ এবং বোন ফতে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার চেষ্টা করলে তারা তাদেরকেও মারধর করে গুরুতর জখম করে। আহতদের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গাজী মাহতাব উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক এর নাম 















