ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাণীশংকৈলে ভবানীপুর কুশুম উদ্দিন সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওহিদুলের বিরুদ্ধে নথি আত্মসাতের অভিযোগ

  • প্রতিবেদক এর নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:২০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • ৮১১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

 

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভবানীপুর কুশুম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নথিপত্র আত্মসাৎ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ জুলাই) এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য রমজান আলী।

 

দাতা সদস্য রমজান আলীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ সহকারী শিক্ষক ওহিদুল ইসলামকে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন। সেই সময় প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ ২ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে সকল আসবাবপত্র ও কাগজপত্র ওহিদুল ইসলামকে বুঝিয়ে দেন। ওহিদুল ইসলাম একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে ৪৮টি উঁচু বেঞ্চ, ৪৮টি নিচু বেঞ্চ, ৪টি চেয়ার, ৪টি টেবিল, ৬টি হাজিরা রেজিস্টার, ২টি রেজুলেশন বহি, ৮টি অন্যান্য রেজিস্টার খাতা, ১টি ঘণ্টা, এবং ৪ সেট তালা-চাবিসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় আসবাবপত্র ও কাগজপত্র বুঝে নিয়ে অঙ্গীকারনাময় স্বাক্ষর করেন।

 

রমজান আলী আরও জানান, তার বাবা, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. কুশুম উদ্দিন, ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর মারা যান। আমার বাবার মৃত্যুর পর দাতা সদস্যপদ শূন্য হওয়ায় একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে রমজান আলীকে বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য নির্বাচিত করা হয়। সে সময় ওহিদুল ইসলাম অত্র বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন হারুনুর রশিদ।

 

অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওহিদুল ইসলাম এই দাতা সদস্য নির্বাচনের রেজুলেশন বহি এবং বিদ্যালয়ের গত প্রায় ১২ বছরের হিসাব-নিকাশ সহ সমস্ত কাগজপত্র আত্মসাৎ করেছেন।

 

রমজান আলী আরও অভিযোগ করেন, ওহিদুল ইসলামকে ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিনি নিজেকে ওই তারিখেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান দেখিয়েছেন, যা একটি বড় ধরনের অনিয়ম। এছাড়া, তার চাকরি সূত্রে তারিখ ও সালের অনেক গরমিল রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রমজান আলী জানান যে, ওহিদুল ইসলাম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করান। এমনকি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের শিক্ষা তথ্য বিবরণীতে ওহিদুল ইসলামের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের তারিখ ১৯৯৫ সালের ৩০ এপ্রিল দেখানো হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

 

ওহিদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভবানীপুর কুশুম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকার পর ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আলশিয়া হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে ছিলেন। সেখান থেকে ১৬ই ফেব্রুয়ারি বদলি হয়ে প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন দাতা সদস্য রমজান আলী। নির্বাহী অফিসার তাকে শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে বলেন। রমজান আলী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে এ সমস্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

রাণীশংকৈলে ভবানীপুর কুশুম উদ্দিন সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওহিদুলের বিরুদ্ধে নথি আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১১:২০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার

 

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভবানীপুর কুশুম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নথিপত্র আত্মসাৎ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ জুলাই) এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য রমজান আলী।

 

দাতা সদস্য রমজান আলীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ সহকারী শিক্ষক ওহিদুল ইসলামকে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন। সেই সময় প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ ২ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে সকল আসবাবপত্র ও কাগজপত্র ওহিদুল ইসলামকে বুঝিয়ে দেন। ওহিদুল ইসলাম একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে ৪৮টি উঁচু বেঞ্চ, ৪৮টি নিচু বেঞ্চ, ৪টি চেয়ার, ৪টি টেবিল, ৬টি হাজিরা রেজিস্টার, ২টি রেজুলেশন বহি, ৮টি অন্যান্য রেজিস্টার খাতা, ১টি ঘণ্টা, এবং ৪ সেট তালা-চাবিসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় আসবাবপত্র ও কাগজপত্র বুঝে নিয়ে অঙ্গীকারনাময় স্বাক্ষর করেন।

 

রমজান আলী আরও জানান, তার বাবা, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. কুশুম উদ্দিন, ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর মারা যান। আমার বাবার মৃত্যুর পর দাতা সদস্যপদ শূন্য হওয়ায় একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে রমজান আলীকে বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য নির্বাচিত করা হয়। সে সময় ওহিদুল ইসলাম অত্র বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন হারুনুর রশিদ।

 

অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওহিদুল ইসলাম এই দাতা সদস্য নির্বাচনের রেজুলেশন বহি এবং বিদ্যালয়ের গত প্রায় ১২ বছরের হিসাব-নিকাশ সহ সমস্ত কাগজপত্র আত্মসাৎ করেছেন।

 

রমজান আলী আরও অভিযোগ করেন, ওহিদুল ইসলামকে ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিনি নিজেকে ওই তারিখেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান দেখিয়েছেন, যা একটি বড় ধরনের অনিয়ম। এছাড়া, তার চাকরি সূত্রে তারিখ ও সালের অনেক গরমিল রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রমজান আলী জানান যে, ওহিদুল ইসলাম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করান। এমনকি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের শিক্ষা তথ্য বিবরণীতে ওহিদুল ইসলামের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের তারিখ ১৯৯৫ সালের ৩০ এপ্রিল দেখানো হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

 

ওহিদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভবানীপুর কুশুম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকার পর ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আলশিয়া হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে ছিলেন। সেখান থেকে ১৬ই ফেব্রুয়ারি বদলি হয়ে প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন দাতা সদস্য রমজান আলী। নির্বাহী অফিসার তাকে শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে বলেন। রমজান আলী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে এ সমস্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।