ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে মা-মা করে কাঁদছে শিশু মুনতাহা//একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস সংযোগ বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও দুজন মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সালমা বেগম ও তানজিলা আক্তার তিশা ও শনিবার ভোরে আসমা বেগম
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ জনে, যার মধ্যে চারজনই একই পরিবারের।

বাবা-মা ও ভাই-বোনকে হারানো ১১ বছরের শিশু মুনতাহার পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইল না। বাবা হাসান গাজী, মা সালমা বেগম, ছোট বোন জান্নাত এবং ভাই রাইয়ান খালা আসমা বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে এ খবর এখনও জানে না সে, হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মুনতাহা। মা-বাবাকে দেখতে চাচ্ছে সে, খুঁজছে ভাই-বোনকেও। কিন্তু তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই। মিজমিজি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তার বাবা, মা, ভাই ও বোনকে। নিহত অপর নারী তাহেরা বেগম হাসান গাজীর শাশুড়ি।

হতাহতদের স্বজন মরিয়ম আক্তার ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, এত বড় একটা ঘটনা ঘটলেও জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি, দগ্ধদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি।

দুই পরিবারের স্বজন ইব্রাহিম একই বাড়ির আরেকটি কক্ষে থাকতেন। তিনিও গ্যাসের গন্ধে ঘর ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ বাড়িতে দুবার আগুন লেগেছে। বাড়ির মালিক ভ্রূক্ষেপ করেননি। তিনি মালিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্বপাইনাদির জাকির খন্দকারের টিনশেড বাড়িতে গত ২২ আগস্ট দুই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হন।

এর মধ্যে হাসান গাজীসহ তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে শুধু মুনতাহা বেঁচে আছে। তানজিল হোসেনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তানজিলা আক্তার তিশা মারা গেছেন। তিশার মা আসমা বেগম শনিবার সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এবং ছোট ভাই আরাফাত হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পূর্বপাইনাদি এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ বলেন ভাষ্য, দগ্ধ শরীর নিয়ে হাসপাতালে ছোট মুনতাহা মা মা বলে চিৎকার করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কেউ এখনও ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। কেউ দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। তিতাস গ্যাসে লিকেজ পেলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকায় প্রশাসন ।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

নাটোর-৪ আসনে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় দায়িত্ব পেলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মোঃ হাফিজুর রহমান।

হাসপাতালে মা-মা করে কাঁদছে শিশু মুনতাহা//একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ১২:১৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস সংযোগ বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও দুজন মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সালমা বেগম ও তানজিলা আক্তার তিশা ও শনিবার ভোরে আসমা বেগম
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ জনে, যার মধ্যে চারজনই একই পরিবারের।

বাবা-মা ও ভাই-বোনকে হারানো ১১ বছরের শিশু মুনতাহার পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইল না। বাবা হাসান গাজী, মা সালমা বেগম, ছোট বোন জান্নাত এবং ভাই রাইয়ান খালা আসমা বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে এ খবর এখনও জানে না সে, হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মুনতাহা। মা-বাবাকে দেখতে চাচ্ছে সে, খুঁজছে ভাই-বোনকেও। কিন্তু তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই। মিজমিজি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তার বাবা, মা, ভাই ও বোনকে। নিহত অপর নারী তাহেরা বেগম হাসান গাজীর শাশুড়ি।

হতাহতদের স্বজন মরিয়ম আক্তার ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, এত বড় একটা ঘটনা ঘটলেও জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি, দগ্ধদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি।

দুই পরিবারের স্বজন ইব্রাহিম একই বাড়ির আরেকটি কক্ষে থাকতেন। তিনিও গ্যাসের গন্ধে ঘর ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ বাড়িতে দুবার আগুন লেগেছে। বাড়ির মালিক ভ্রূক্ষেপ করেননি। তিনি মালিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্বপাইনাদির জাকির খন্দকারের টিনশেড বাড়িতে গত ২২ আগস্ট দুই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হন।

এর মধ্যে হাসান গাজীসহ তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে শুধু মুনতাহা বেঁচে আছে। তানজিল হোসেনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তানজিলা আক্তার তিশা মারা গেছেন। তিশার মা আসমা বেগম শনিবার সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এবং ছোট ভাই আরাফাত হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পূর্বপাইনাদি এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ বলেন ভাষ্য, দগ্ধ শরীর নিয়ে হাসপাতালে ছোট মুনতাহা মা মা বলে চিৎকার করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কেউ এখনও ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। কেউ দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। তিতাস গ্যাসে লিকেজ পেলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকায় প্রশাসন ।