ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসা শিক্ষায় দৃষ্টান্ত মারিয়া, জিপিএ-৫ পেয়ে এগোচ্ছে চিকিৎসক হবার পথে

Oplus_131072

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের দাখিল (সমমান এসএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে মাইমুনা আক্তার মারিয়া। সে ঢাকার প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা মহিলা শাখার নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল।
মাইমুনা আক্তার মারিয়া একজন গর্বিত কন্যা। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর  তার পিতা মাওলানা মো. মফিজুল ইসলাম একজন পরিচিত সমাজসেবক। তিনি বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জমিয়তে হিজবুল্লাহর ডেমরা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
মারিয়া এবারের পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ ও হাদীস শরিফ, আরবি, আকাইদ ও ফিকহ, বাংলা, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত—এই নয়টি বিষয়ে এ+ এবং ইংরেজিতে এ গ্রেড পেয়ে সর্বমোট জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
মারিয়ার বাবা মাওলানা মো. মফিজুল ইসলাম মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত একজন ডাক্তার হওয়ার। আল্লাহর অশেষ রহমতে ও সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আমি গর্বিত, আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। ওর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ তাকে যোগ্যতা ও সততা দিয়ে দেশের জন্য একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলেন।”
মারিয়া জানায়, “আমি ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ ও চিকিৎসক হতে চাই। গরিব, অসহায় ও রোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার এই পথচলায় সবার দোয়া চাই।”
মারিয়া আরো জানান, “আমার এই সাফল্যের পেছনে বাবা, মা এবং আমার গৃহশিক্ষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং ডেমরা আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান খোকন স্যারের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। আমি তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, মারিয়া বরাবরই একাগ্রচিত্তে লেখাপড়ায় মনোযোগী এবং দায়িত্বশীল ছাত্রী। তার এমন উজ্জ্বল ফলাফল শুধু মাদরাসার গর্ব নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি উদাহরণ।
মারিয়ার এই কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে সে যেন তার লক্ষ্য পূরণ করে দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে – এই কামনায় তার জন্য সবার ভালোবাসা ও শুভকামনা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

রূপগঞ্জের হোড়গাঁওয়ে মাদক কারবারি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

মাদ্রাসা শিক্ষায় দৃষ্টান্ত মারিয়া, জিপিএ-৫ পেয়ে এগোচ্ছে চিকিৎসক হবার পথে

প্রকাশের সময় : ০২:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের দাখিল (সমমান এসএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে মাইমুনা আক্তার মারিয়া। সে ঢাকার প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা মহিলা শাখার নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল।
মাইমুনা আক্তার মারিয়া একজন গর্বিত কন্যা। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর  তার পিতা মাওলানা মো. মফিজুল ইসলাম একজন পরিচিত সমাজসেবক। তিনি বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জমিয়তে হিজবুল্লাহর ডেমরা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
মারিয়া এবারের পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ ও হাদীস শরিফ, আরবি, আকাইদ ও ফিকহ, বাংলা, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত—এই নয়টি বিষয়ে এ+ এবং ইংরেজিতে এ গ্রেড পেয়ে সর্বমোট জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
মারিয়ার বাবা মাওলানা মো. মফিজুল ইসলাম মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত একজন ডাক্তার হওয়ার। আল্লাহর অশেষ রহমতে ও সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আমি গর্বিত, আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। ওর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ তাকে যোগ্যতা ও সততা দিয়ে দেশের জন্য একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলেন।”
মারিয়া জানায়, “আমি ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ ও চিকিৎসক হতে চাই। গরিব, অসহায় ও রোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার এই পথচলায় সবার দোয়া চাই।”
মারিয়া আরো জানান, “আমার এই সাফল্যের পেছনে বাবা, মা এবং আমার গৃহশিক্ষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং ডেমরা আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান খোকন স্যারের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। আমি তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, মারিয়া বরাবরই একাগ্রচিত্তে লেখাপড়ায় মনোযোগী এবং দায়িত্বশীল ছাত্রী। তার এমন উজ্জ্বল ফলাফল শুধু মাদরাসার গর্ব নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি উদাহরণ।
মারিয়ার এই কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে সে যেন তার লক্ষ্য পূরণ করে দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে – এই কামনায় তার জন্য সবার ভালোবাসা ও শুভকামনা।