চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আনোয়ারপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনেই গড়ে উঠেছে একটি অত্যাধুনিক ডায়াবেটিক সেবা কেন্দ্র — ‘আবুল হোসেন ডায়াবেটিক সেন্টার’। এটি একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা ব্যতিক্রমধর্মী একটি সেবা প্রতিষ্ঠান, যেখানে সেবা মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার এবং এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোঃ খবির উদ্দিন, প্রতি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এখানে ডায়াবেটিক রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।
আবুল হোসেন ডায়াবেটিক সেন্টারে সেবা নিয়ে আমুয়াকান্দি গ্রাম থেকে মহিউদ্দিন নামের এক রোগী বলেন, আমি অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি। চাঁদপুর বা ঢাকা গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য। এখানে ফ্রি চিকিৎসা ও পরামর্শ পেয়ে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি। ডা. খবির স্যারের মতো মানুষ এখনকার দিনে বিরল। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি।
ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন থেকে আসমা বেগম নামে এক নারী জানান, আমি বিধবা মহিলা, তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে চলা মুশকিল। শরীর খারাপ হলে কোথাও যেতে পারতাম না। এখন শুক্রবারে এসে এখানে ফ্রি সেবা পাই। ডা. খবির স্যার খুব ভালো, ধৈর্য ধরে কথা বলেন, পরীক্ষা করে দেন। আল্লাহ্ যেন উনাকে সুস্থ রাখেন।
ছেংগারচর পৌরসভার সফিকুল ইসলাম নামে আরেক রোগী বলেন, আমার সামান্য আয়, চাষবাস করি। ডায়াবেটিক ধরা পড়ার পর চিন্তায় ছিলাম। এখানে এসে ডাক্তারের কাছে সেবা পাই, খরচ লাগে না। উনি শুধু ভালো ডাক্তার না, একজন ভালো মানুষ। তার বাবার নামে এমন একটা প্রতিষ্ঠান করে গ্রামের মানুষকে উপকার করছেন।
এ বিষয়ে ডা. খবির উদ্দিন জানান, আনোয়ারপুর গ্রামে আমি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছি শুধুমাত্র মতলববাসীর সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। আমার বাবা আবুল হোসেনের নামে এই সেন্টারটির নামকরণ করেছি। এটা আমার পক্ষ থেকে মতলবের মানুষের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন।
তিনি আরও বলেন, এই সেবাটি সম্পূর্ণ ফ্রি। আমি চাই, মতলবের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডায়াবেটিক রোগীরা যেন বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসা নিতে পারেন।
ডা. খবির উদ্দিন মতলববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি শুক্রবার আপনারা এই সেন্টারে এসে ডায়াবেটিক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করুন। তিনি সকলের কাছে তার পিতা-মাতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এমন সেবা কার্যক্রম শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, অনুকরণীয়ও।
ইসমাইল খান টিটু 









