মওলানা ভাসানীই হচ্ছেন রাজনীতির সঠিক পথ”মোস্তফা কামাল


Sokal Pratidin প্রকাশের সময় : ১১/০২/২০২৩, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ /
মওলানা ভাসানীই হচ্ছেন রাজনীতির সঠিক পথ”মোস্তফা কামাল
নিজস্ব সংবাদদাতা। 
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যে মহামিলন ঘটিয়েছিলেন তা ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন,  সেখান থেকে তিনি যে ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারন করেছিলেন সেটাই পূর্ব বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। মওলানা ভাসানীই হচ্ছেন রাজনীতির সঠিক পথ।বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তোপখানা রোডে স্থানীয় এক মিলনায়তনে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ‘কাগমারী সম্মেলন’ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত পথ মওলানা ভাসানী আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন থেকে মওলনা ভাসানী পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমার পূর্ব পাকিস্তানের উপর যে জুলুম করছো তার জন্য তোমাদেরকে অলাইকুম সালাম‘ সেদিনের মওলনার বক্তব্যে প্রথম সরাসরি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের শব্দ বিজ স্থাপন করেন।

তিনি আরো বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের নেতা। তিনি পাকিস্তান সরকারের নিষিদ্ধ রবীন্দ্র সংগীত পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত সে সময় সমাবেশে পরিবেশনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। মওলনা ভাসানী ভাষা আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দেন। অথচ বর্তমান সরকার ইতিহাস বিকৃতি করে পাঠ্য বইয়ে মিথ্যা মনগড়া ইতিহাস রচনা প্রকাশ করছে। শত বছর পরে হলেও মওলনা ভাসানীর বাংলাদেশ সৃষ্টির ও অবদানের সঠিক মূল্যায়ন করবে ইতিহাস।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব কাশেম মাসুদ, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টি সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, ফরওয়ার্ড পার্টির সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম চৌধুরী, সমাজ চিন্তা ফেরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল,  ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এনডিএম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদুর রহমান জনি প্রমুখ।

সাবেক সচিব কাশেম মাসুদ বলেন, কাগমারী সম্মেলন থেকেই মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এই সম্মেলনেই মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানিয়েছিলেন। একটি নিরীহ ধর্মীয় সম্বোধন মওলানা ভাসানীর ‘আসসালামু আলাইকুম’ শব্দটি স্বাধীনতার সমার্থক শব্দ হয়ে দাড়িয়েছিল।

স্বাধীনতা পার্টি সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন বলেন, ভাবতে অবাক লাগে, এই বাংলাদেশেই ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টাঙ্গাইলের কাগমারীতে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন।

সমাজ চিন্তা ফেরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল বলেন, ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসন ও স্বাধীকার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগনকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেছিল।

এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, ইতিহাসে যার যেটুকু ভূমিকা, তা স্বীকার না করলে একদিন ইতিহাসই মুখ ফিরিয়ে নেবে। ১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আহ্বানে ও নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ছিল উপমহাদেশ তথা তৎকালিন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট।