ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএটি’র অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী অপসারণসহ পাঁচ দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

ঢাকা সেনানিবাস আবাসিক এলাকা থেকে বিএটি’র অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী অপসারণ, বিড়ির শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নকল বিড়ি ও সিগারেট প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়ন। সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১ টার দিকে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানান বিড়ি শ্রমিকরা।

মানববন্ধন শেষে পাবনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমিক নির্ভর শিল্প। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিড়িতে কোনো শুল্ক ছিল না। কিন্তু দেশি-বিদেশী কিছু এনজিও এবং বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির ষড়যন্ত্রে বিড়ি কারখানা গুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ হচ্ছে। ফলে শিল্পটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং বেকারত্বের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে লক্ষ লক্ষ অসহায় নারী ও পুরুষ শ্রমিক। সুতরাং বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে আগামী বাজেটে বিড়ির শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া নকল বিড়ি ও সিগারেট উৎপাদন এবং বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে নকল বিড়ি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে।

শ্রমিকরা আরো বলেন, ঢাকা সেনানিবাস আবাসিক এলাকায় বিএটি’র সিগারেট ফ্যাক্টরী পরিবেশ ও জনস্বাস্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ফ্যাক্টরী থেকে নির্গত রাসায়নিকে শিশু, বৃদ্ধ ও সর্বস্তরের জনগণ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছে। বর্তমানে বিএটি আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবাসিক এলাকায় অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী পরিচালনা করছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, বিএটি কি সরকারের চেয়েও ক্ষমতাশালী? বিএটি এদেশের মানুষের ফুসফুল পুড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার করছে। এছাড়া বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী নানা ভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে থাকে যা বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং অতি দ্রæত বিএটির অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী অপসারন, শুল্ক ফাঁকিসহ তাদের সকল প্রকার আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হারিক হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, আবুল হাসনাত লাভলু, রাণী খাতুন, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আলম হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক দুলাল মোল্ল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল শেখ, কোষাধ্যক্ষ টোকন রায়, শ্রম সম্পাদক চামেলি খাতুন প্রমূখ।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

বিএটি’র অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী অপসারণসহ পাঁচ দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

ঢাকা সেনানিবাস আবাসিক এলাকা থেকে বিএটি’র অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী অপসারণ, বিড়ির শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নকল বিড়ি ও সিগারেট প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়ন। সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১ টার দিকে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানান বিড়ি শ্রমিকরা।

মানববন্ধন শেষে পাবনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমিক নির্ভর শিল্প। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিড়িতে কোনো শুল্ক ছিল না। কিন্তু দেশি-বিদেশী কিছু এনজিও এবং বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির ষড়যন্ত্রে বিড়ি কারখানা গুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ হচ্ছে। ফলে শিল্পটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং বেকারত্বের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে লক্ষ লক্ষ অসহায় নারী ও পুরুষ শ্রমিক। সুতরাং বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে আগামী বাজেটে বিড়ির শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া নকল বিড়ি ও সিগারেট উৎপাদন এবং বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে নকল বিড়ি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে।

শ্রমিকরা আরো বলেন, ঢাকা সেনানিবাস আবাসিক এলাকায় বিএটি’র সিগারেট ফ্যাক্টরী পরিবেশ ও জনস্বাস্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ফ্যাক্টরী থেকে নির্গত রাসায়নিকে শিশু, বৃদ্ধ ও সর্বস্তরের জনগণ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছে। বর্তমানে বিএটি আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবাসিক এলাকায় অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী পরিচালনা করছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, বিএটি কি সরকারের চেয়েও ক্ষমতাশালী? বিএটি এদেশের মানুষের ফুসফুল পুড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার করছে। এছাড়া বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী নানা ভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে থাকে যা বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং অতি দ্রæত বিএটির অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরী অপসারন, শুল্ক ফাঁকিসহ তাদের সকল প্রকার আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হারিক হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, আবুল হাসনাত লাভলু, রাণী খাতুন, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আলম হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক দুলাল মোল্ল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল শেখ, কোষাধ্যক্ষ টোকন রায়, শ্রম সম্পাদক চামেলি খাতুন প্রমূখ।