বন্দরে ইটভাটা বন্ধের শর্তে জামিন পেলেও চালু রয়েছে সেভেন জিরো সেভেন ব্রিকস্ এন্ড কোং


Munna প্রকাশের সময় : ০৫/১২/২০২৩, ৮:০০ অপরাহ্ণ /
বন্দরে ইটভাটা বন্ধের শর্তে জামিন পেলেও চালু রয়েছে সেভেন জিরো সেভেন ব্রিকস্ এন্ড কোং

পরিবেশ সংরক্ষন আইন, ইট প্রসুতি ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন অমান্য করে বন্দরের কুচিয়া মোড়া এলাকায় ইট ভাটা তৈরী করে পরিবেশন দুষনের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় সেভেন জিরো সেভেন ব্রিকস্ এন্ড কোং ইট ভাটার মালিক মো. গিয়াস উদ্দিন (৫২) কে। পরে ওই কারখানা আর চালু করবেনা সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার শর্তে আদালাত থেকে জামিন পান তিনি। এরপর কারাগার থেকে বের হয়েই আদালতের শর্ত ভঙ্গ করে ফের ওই ইট ভাটার সকল কার্যক্রম চালু রাখেন ওই গিয়াস উদ্দিন। এতে করে পরিবেশ দুষনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, বিলিন হচ্ছে ফসলী জমি, বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে ওই এলাকা।
এনিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের শর্ত ভেঙ্গে নির্দেশ উপেক্ষা করে ওই ইট ভাটার সকল কার্যক্রম চালু করায় স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন গিয়াস উদ্দিনের খুটির জোর কথায়। এর নেপথ্যে যারা এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছে তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হউক। অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার কেওঢালা এলাকার মৃত আস্কর আলীর ছেলে। এরআগেও এ ওই ইটভাটা ও এর মালিকের অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর একাধিক অভিযোগ দায়ের করে স্থানীয়রা।
জানাগেছে, অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন ২০১১ সালে পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতিরেকেই বন্দরের “কুচিয়া মোড়া” মৌজাস্থিত; কামরাব এলাকায় মেসার্স-সেভেন জিরো সেভেন ব্রিকস এন্ড কোং নামে একটি অবৈধ ইট ভাটা স্থাপন করে। ওই ইটভাটাটির এক কিলো মিটারের মধ্যে নিষিদ্ধ এলাকা রহিয়াছে। এর ১ কিলোমিটাররের মধ্যে কাইনালী ভিটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ পাশের বসত বাড়ি রহিয়াছে। এতে এলাকার পরিবেশ এর ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এছাড়াও ইটা প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে মাটি ইটের কঁাচা মাল হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। ইট তৈরী সময় ইটভাটা হতে নির্গত কালো ধেঁায়ায় চারিপাশ আচ্ছন্ন হওয়ার কারনে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ সম্মুখীন। এই ইটভাটার ফলে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ায় ফসলাদীর ক্ষতি সাধন হচ্ছে এবং গাছ গাছালির ও পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
তাছাড়া বহু কৃষক তাহাদের টাকার বিশেষ প্রয়োজনে কৃষি জমি বিক্রী করিতে চাহিলেও ইট ভাটার কারনে কেহ জমি ক্রয় করিতে চায়না। কিছু কৃষক তাদের নিজ জমিতে বসবাসের জন্য বাড়ি নির্মাণ করতে চাইলেও উক্ত ইট ভাটার কারনে বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে কৃষকরা পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এবং নানা কষ্টে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। ওই ইটভাটাকে বন্ধ করতে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও ব্যার্থ হয়েছে এলাকাবাসী।
এসব ঘটনায় ওই এলাকার একজন বাসিন্ধা আওলাদ হোসেন গত ৪ অক্টোবর আদালতে একটি মামলার আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নেয়। এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পরে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হলে আদালত ২ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠায়। এরপর মামলার আসামী গিয়াস উদ্দিন শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় এবং ওই অবৈধ কারখানা আর চালু করবেনা সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে শর্তে আদালাত থেকে জামিন পান তিনি। জামিনে বের হয়ে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফের ওই ইট ভাটার সকল কার্যক্রম চালু করেন গিয়াস উদ্দিন।
এনিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে, রক্তক্ষীয় সংঘর্ষের আশংকা করে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন গিয়াস উদ্দিনের খুটির জোর কথায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ইট ভাটায় কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। উক্ত ইট ভাটাটির কারনে অনেক কৃষক ভূমিহীন হচ্ছে। ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে কোমল মতি শিশুরা রয়েছে ঝঁুকিতে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন ইট ভাটার ট্রাক চলাচলের কারনে রাস্তাঘাটে খানাখন্দের সৃস্টি হয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিশু, বয়ষ্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী ও জনগনের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা আইন অনুযায়ী উক্ত ইটভাটাটির অবস্থানও গ্রহন যোগ্য নয় বিধায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি স্থায়ীভাবে বন্ধকরণের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হউক। ওই ইটভাটার কারণে তারা মারাত্নক ঝুঁকিতে বসবাস করছে। আবার অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
সেভেন জিরো সেভেন ব্রিকস্ এন্ড কোং ইট ভাটার মালিক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি মামলাটি উচ্চ আদালতে নিয়ে গিয়েছি। আদালত (আপিল বিভাগ) আমাকে ইট ভাটা চালানোর আদেশ দিয়েছে। আপনি এসে দেখে যেতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোবারক হোসেন জানান, আদালতের নিদের্শ পেয়ে সরজমিনে গিয়ে পরিদশর্ন করে ইট ভাটাটি চলছে। তাই লিখিত একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। তারপরেও আদালত পূণর্রায় নতুন করে আরেকট প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ পাঠিয়েছে। আমরা দুই/তিন দিনের মধ্যে আবার নতুন একটি প্রতিবেদন পাঠাবো।
বন্দর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমি এ মুহুতে বলতে পারছি না, কাগজ দেখে বলতে পারবো। তিনি আরো বলেন, বাদী যদি আদালতের নির্দেশের কপি নিয়ে থানায় আসে তা দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।