বকশীগঞ্জে মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার  সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে মামলা 


Sokal Pratidin প্রকাশের সময় : ২৬/০২/২০২৩, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ /
বকশীগঞ্জে মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার   সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে মামলা 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ব্যাপক বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সহকারী শিক্ষক গোলাম সরোয়ার ও নৈশ্য প্রহরী রফিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে এই মামলা করেন তারা। এছাড়াও গত শনিবার বিদ্যালয় মাঠে তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়– মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এই নিয়ে মাদ্রাসায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দারুণ বিঘœ ঘটছে।

 

অভিযোগে জানা যায়,১৯৯৩ সালে মালিরচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৪ সালে মাদ্রাসায় যোগদান করেন আবদুস সাত্তার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক যেনো তাকে পিছু ছাড়ছে না। নিয়োগ বাণিজ্য ও শিক্ষকদের সাথে অসাদাচরনসহ নানা কারনে সব সময় সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকেন তিনি। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। নিয়োগের বিষয়টি গোপন রেখে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের কৌশলে আবেদন করান সুপার। চাকুরী দেওয়ার কথা বলে দুই পদের জন্য চারজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন সুপার আবদুস সাত্তার ও সভাপতি আবদুল হামিদ এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সুপারের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আরবি বিভাগের সহকারী শিক্ষক গোলাম সরোয়ার ও নৈশ্য প্রহরী রফিকুল ইসলামের বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন সুপার। গত ৪ মাস যাবত তারা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই অনিয়মের অভিযোগ ও নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসার সুপার আবদুস সাত্তার,সভাপতি আঃ হামিদ,চাকুরী প্রত্যাশী সোহেল আহম্মেদ,শফিক মিয়া ওরফে বাবুল, আজমনী আক্তার ও সুফিয়া আক্তার সুমীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন সহকারী শিক্ষক গোলাম সরোয়ার ও নৈশ্য প্রহরী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া নিয়োগ বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন তারা। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন ইউএনও। ২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন সুপার আবদুস সাত্তার। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,আবেদনকারী ও ডিজি প্রতিনিধি মাদ্রাসায় উপস্থিত হলে স্থানীয় এলাকাবাসী নিয়োগ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল করেন তারা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে মাদ্রাসার একটি কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সুপার আবদুস সাত্তার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবদুল হামিদ। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

 

মামলার বাদী সহকারী শিক্ষক গোলাম সরোয়ার বলেন,মাদ্রাসায় এমন কোন নিয়োগ নাই যে নিয়োগে সুপার অনিয়ম ও বাণিজ্য করেন নাই। তার ইচ্ছেমত তিনি মাদ্রাসায় আসেন আবার ইচ্ছে হলেই বের হয়ে যান। মাদ্রাসার সভাপতির ইন্দনে কারো তোয়াক্কা করেন না তিনি। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বেতন ভাতা বন্ধ করে হয়রানি করেন। আমার বেতনও বন্ধ করেছেন ৪ মাস হলো। তাই আদালতের দ্বারস্থ্য হয়েছি। এর প্রতিকার চাই।

 

এ ব্যাপারে জানতে রোববার বেলা ১১ টার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে সুপার আবদুস সাত্তারকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অফিসিয়াল কাজে বাইরে আছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম হয়নি। সহকারী শিক্ষক ও নৈশ্য প্রহরীর বেতন বন্ধের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন কমিটির সিদ্ধান্তে তাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম,সাইদুর রহমান ও আসাদুল্লাহ বলেন,এর আগেও অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন সুপার আবদুস সাত্তার ও সভাপতি আবদুল হামিদ। সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ বন্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও ঝাড়– মিছিল করেছে। মাদ্রাসার স্বার্থে কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি আমাদের।

 

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন,কোন অনিয়ম হয়নি। একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তাদের উস্কানিতেই আমাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে নিয়োগ পরীক্ষার ডিজি প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মৌলভীপাড়া মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পর নিয়োগ বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কাজ না করেই চলে আসি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। কতৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, নিয়োগ বন্ধের দাবিতে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী । সে সময় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার মত পরিবেশ ছিলো না। তাই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি উধর্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা বলেন, নিয়োগ বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। শনিবার নিয়োগ পরীক্ষার শুরুর আগে এলাকাবাসী পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ফলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।