ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বকশীগঞ্জে বিস্ফোরক মামলার চার্জশিটে নাম নেই আওয়ামীলীগ নেতাদের: উপজেলাজুড়ে সমালোচনা

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন হ্যাভিওয়েট নেতাকে। মামলার বাদী অসুস্থ থাকার সুযোগে এমনটা হয়েছে বলে দাবি উপজেলার সচেতন মহলের আর এই বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ০২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ কয়েকটি ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান। মামলায় ১৩৯ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামী করা হয়। মামলায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড, অগ্নিসংযোগ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ কিন্তু চার্জশিটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকা, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. অনিল কুমার ধর সহ ১১ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে দুইজন মারা গেছে আর চার্জশিট দেয়া হয়েছে ১শ ২৮ জনের নামে। চার্জশিট জমা দেয়ার পর থেকেই উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, মামলার প্রত্যেক আসামী আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট এরা বিগত ১৭ বছর আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। মামলার আওয়ামী লীগের বড় বড় রাঘব বোয়ালদের বাদ দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের পদধারী যাদেরকে চার্জশিট থেকে কর্তন করা হয়েছে তাদেরকে চার্জশিটে পূর্ণবহাল করার দাবি জানান।
জামালপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ রাজু বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকা, যিনি বিনা ভোটের সাবেক এমপি এবং শেখ পরিবারের অন্যতম সদস্য আবুল কালাম আজাদের ডানহাত খ্যাত ছিলো বিগত ১৭ বছরে যে আওয়ামীলীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে টাকার পাহাড় গড়েছে তার নাম কিভাবে চার্জশিট থেকে কাটা হয় এটা আমাদের বোধগম্য নয়! এছাড়াও বর্তমান কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ অনিল কুমার ধর এবং কোষাধ্যক্ষ মোঃ ইদ্রিস আলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদধারী ব্যক্তিদের নামও কাটা হয়েছে। আমার ধারনা বকশীগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই চার্জশিট থেকে নাম কর্তন করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের একজন সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মামলার বাদী আনিছুর রহমানের মোবাইল ফোনে দিলে তার ছেলে রবিন ফোনটি রিসিভ করেন বলেন-আমার বাবা স্ট্রোক করেছেন। তিনি খুবই অসুস্থ। ফোনে কথাও বলতে পারবেন না।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা বকশীগঞ্জ থানার উপ- পরিদর্শক মনজুরুল ইসলাম বলেন- তদন্তে দেখা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে কারণেই তদন্তের ভিত্তিতে তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিট প্রদানের সময় বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দায়িত্বে ছিলেন শাকের আহাম্মেদ। বর্তমানে তিনি মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দায়িত্বে আছেন। মোবাইল ফোনে শাকের আহাম্মেদ বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। তদন্তের পর যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

বকশীগঞ্জে বিস্ফোরক মামলার চার্জশিটে নাম নেই আওয়ামীলীগ নেতাদের: উপজেলাজুড়ে সমালোচনা

প্রকাশের সময় : ০৯:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন হ্যাভিওয়েট নেতাকে। মামলার বাদী অসুস্থ থাকার সুযোগে এমনটা হয়েছে বলে দাবি উপজেলার সচেতন মহলের আর এই বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ০২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ কয়েকটি ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান। মামলায় ১৩৯ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামী করা হয়। মামলায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড, অগ্নিসংযোগ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ কিন্তু চার্জশিটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকা, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. অনিল কুমার ধর সহ ১১ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে দুইজন মারা গেছে আর চার্জশিট দেয়া হয়েছে ১শ ২৮ জনের নামে। চার্জশিট জমা দেয়ার পর থেকেই উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, মামলার প্রত্যেক আসামী আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট এরা বিগত ১৭ বছর আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। মামলার আওয়ামী লীগের বড় বড় রাঘব বোয়ালদের বাদ দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের পদধারী যাদেরকে চার্জশিট থেকে কর্তন করা হয়েছে তাদেরকে চার্জশিটে পূর্ণবহাল করার দাবি জানান।
জামালপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ রাজু বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকা, যিনি বিনা ভোটের সাবেক এমপি এবং শেখ পরিবারের অন্যতম সদস্য আবুল কালাম আজাদের ডানহাত খ্যাত ছিলো বিগত ১৭ বছরে যে আওয়ামীলীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে টাকার পাহাড় গড়েছে তার নাম কিভাবে চার্জশিট থেকে কাটা হয় এটা আমাদের বোধগম্য নয়! এছাড়াও বর্তমান কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ অনিল কুমার ধর এবং কোষাধ্যক্ষ মোঃ ইদ্রিস আলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদধারী ব্যক্তিদের নামও কাটা হয়েছে। আমার ধারনা বকশীগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই চার্জশিট থেকে নাম কর্তন করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের একজন সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মামলার বাদী আনিছুর রহমানের মোবাইল ফোনে দিলে তার ছেলে রবিন ফোনটি রিসিভ করেন বলেন-আমার বাবা স্ট্রোক করেছেন। তিনি খুবই অসুস্থ। ফোনে কথাও বলতে পারবেন না।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা বকশীগঞ্জ থানার উপ- পরিদর্শক মনজুরুল ইসলাম বলেন- তদন্তে দেখা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে কারণেই তদন্তের ভিত্তিতে তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিট প্রদানের সময় বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দায়িত্বে ছিলেন শাকের আহাম্মেদ। বর্তমানে তিনি মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দায়িত্বে আছেন। মোবাইল ফোনে শাকের আহাম্মেদ বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। তদন্তের পর যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।