ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বকশীগঞ্জে কৃষকের ক্ষেতে ভারতীয় বন্য হাতির তাণ্ডব।

ভারতীয় পাহাড়ি বন্য হাতির তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক কৃষক।

সীমান্তবর্তী সাতানীপাড়া ও বালুরচর গ্রামে
সন্ধ্যা নেমে আসার সাথে সাথেই হাতির দল পাহাড় থেকে নেমে এসে তান্ডব চালায় ফসলি জমিতে। সদ্য লাগানো ধানের চারা খেয়ে ও পা দিয়ে পিষিয়ে নষ্ট করে ফেলছে শুধু ধান গাছের চারা নয় আলু ক্ষেত, কলা বগান ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে হাতির পাল। এতে করে ফসলসহ ফলজ ও বনজ গাছের বাগান হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। এ অবস্থায় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন কৃষকরা।

গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বন্যহাতির বিশাল একটি দল সীমান্তঘেঁষা সাতানীপাড়ার কাছে অবস্থান করছে। প্রতিদিন সন্ধা হওয়ার সাথে সাথেই হাতির দলটি লোকালয়ে নেমে আসে। কয়েক দিনের অব্যাহত হাতির অত্যাচারে সাতানীপাড়া ও বালুরচর গ্রামে বিনষ্ট হয়েছে চারা ধানখেত। ধানের চারা গুলো হাতির খাবারে পরিণত হয়েছে। এতে দিশাহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। খাদ্যের সন্ধানে অভুক্ত ভারতীয় পাহাড়ী বন্য হাতিগুলো লোকালয়ে এসে ছোটাছুটি করে। হাতির তান্ডবে গ্রামবাসীর এখন নির্ঘুম রাত কাটছে।

সাতানীপাড়া গ্রামের অনন্ত মারাক জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় ৩০-৪০টি হাতির একটি পাল সীমান্তবর্তী পাহাড়ে অবস্থান করছিল। খাবারের সন্ধানে হাতির পালটি রাতে গ্রামের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীর হইহুল্লোড়, মশালের আলো ও ঢাকঢোল পেটানোর শব্দে হাতির পাল ঘরবাড়িতে ঢুকতে পারেনি। তবে বিস্তীর্ণ চারা ধানখেত তছনছ করে গেছে। সারা রাত হাতির পাল তাণ্ডব চালিয়ে ভোরে পাহাড়ের দিকে চলে গেছে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক বছর সীমান্তবর্তী কামালপুর ইউনিয়নের শোমনাথপাড়া, বালুরচর, অশেনা কোনা, সাতানীপাড়া, টিলাপাড়া, পাগলগোছা, দিঘলাকোনা, সোমনাথপাড়া গ্রামের মানুষ ভারতীয় পাহাড়ি বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্দিষ্ট সময় যখন পাহাড়ের খাবার না থাকে তখন হাতির পাল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গ্রামে চলে আসে। কৃষকের ধান, বেগুন, মাল্টা, লেবু ক্ষেতসহ কৃষি খামারে ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে।
হাতি তাড়ানোর আধুনিক কোন প্রযুক্তি না থাকায় আতঙ্কে থাকে কয়েক গ্রামের মানুষ।
মানুষ হাতির এই চোর পুলিশ খেলার স্থায়ী একটা সমাধান চান তিনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

সাতানীপাড়া বালুরচর গ্রামের মোস্তফা বলেন, হাতিগুলো পাহাড় থেকে দলবেঁধে নেমে আসে ফসলের খেতে। রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও রক্ষা হয় না। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। হাতির আক্রমণরোধে সরকারের স্থায়ী পদক্ষেপ কামনা করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে বন্যহাতির তান্ডবে পাহাড়ি মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

বকশীগঞ্জের ডুমুরতলা বনবিট কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, বন্য হাতির পাল গ্রামে ঢোকার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। হাতিগুলো কৃষকের ধানখেত সহ ফলজ ও বনজ গাছপালা নষ্ট করেছে। গ্রামবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদ রানা বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

 

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

বকশীগঞ্জে কৃষকের ক্ষেতে ভারতীয় বন্য হাতির তাণ্ডব।

প্রকাশের সময় : ০১:৪৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

ভারতীয় পাহাড়ি বন্য হাতির তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক কৃষক।

সীমান্তবর্তী সাতানীপাড়া ও বালুরচর গ্রামে
সন্ধ্যা নেমে আসার সাথে সাথেই হাতির দল পাহাড় থেকে নেমে এসে তান্ডব চালায় ফসলি জমিতে। সদ্য লাগানো ধানের চারা খেয়ে ও পা দিয়ে পিষিয়ে নষ্ট করে ফেলছে শুধু ধান গাছের চারা নয় আলু ক্ষেত, কলা বগান ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে হাতির পাল। এতে করে ফসলসহ ফলজ ও বনজ গাছের বাগান হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। এ অবস্থায় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন কৃষকরা।

গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বন্যহাতির বিশাল একটি দল সীমান্তঘেঁষা সাতানীপাড়ার কাছে অবস্থান করছে। প্রতিদিন সন্ধা হওয়ার সাথে সাথেই হাতির দলটি লোকালয়ে নেমে আসে। কয়েক দিনের অব্যাহত হাতির অত্যাচারে সাতানীপাড়া ও বালুরচর গ্রামে বিনষ্ট হয়েছে চারা ধানখেত। ধানের চারা গুলো হাতির খাবারে পরিণত হয়েছে। এতে দিশাহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। খাদ্যের সন্ধানে অভুক্ত ভারতীয় পাহাড়ী বন্য হাতিগুলো লোকালয়ে এসে ছোটাছুটি করে। হাতির তান্ডবে গ্রামবাসীর এখন নির্ঘুম রাত কাটছে।

সাতানীপাড়া গ্রামের অনন্ত মারাক জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় ৩০-৪০টি হাতির একটি পাল সীমান্তবর্তী পাহাড়ে অবস্থান করছিল। খাবারের সন্ধানে হাতির পালটি রাতে গ্রামের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীর হইহুল্লোড়, মশালের আলো ও ঢাকঢোল পেটানোর শব্দে হাতির পাল ঘরবাড়িতে ঢুকতে পারেনি। তবে বিস্তীর্ণ চারা ধানখেত তছনছ করে গেছে। সারা রাত হাতির পাল তাণ্ডব চালিয়ে ভোরে পাহাড়ের দিকে চলে গেছে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক বছর সীমান্তবর্তী কামালপুর ইউনিয়নের শোমনাথপাড়া, বালুরচর, অশেনা কোনা, সাতানীপাড়া, টিলাপাড়া, পাগলগোছা, দিঘলাকোনা, সোমনাথপাড়া গ্রামের মানুষ ভারতীয় পাহাড়ি বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্দিষ্ট সময় যখন পাহাড়ের খাবার না থাকে তখন হাতির পাল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গ্রামে চলে আসে। কৃষকের ধান, বেগুন, মাল্টা, লেবু ক্ষেতসহ কৃষি খামারে ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে।
হাতি তাড়ানোর আধুনিক কোন প্রযুক্তি না থাকায় আতঙ্কে থাকে কয়েক গ্রামের মানুষ।
মানুষ হাতির এই চোর পুলিশ খেলার স্থায়ী একটা সমাধান চান তিনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

সাতানীপাড়া বালুরচর গ্রামের মোস্তফা বলেন, হাতিগুলো পাহাড় থেকে দলবেঁধে নেমে আসে ফসলের খেতে। রাত জেগে পাহাড়া দিয়েও রক্ষা হয় না। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। হাতির আক্রমণরোধে সরকারের স্থায়ী পদক্ষেপ কামনা করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে বন্যহাতির তান্ডবে পাহাড়ি মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

বকশীগঞ্জের ডুমুরতলা বনবিট কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, বন্য হাতির পাল গ্রামে ঢোকার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। হাতিগুলো কৃষকের ধানখেত সহ ফলজ ও বনজ গাছপালা নষ্ট করেছে। গ্রামবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদ রানা বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।