জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার বিপক্ষে ও পক্ষে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট বকশীগঞ্জে বাট্টাজোড় জিন্নাবাজার ব্রাইট স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাথী, অভিভাবকসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার বিপক্ষে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মানববন্ধন থেকে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার অপসারণ দাবি করা হয়।
অপরদিকে ৩১ আগস্ট (রবিবার) বাট্টাজোড় জিন্নাবাজার নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাথী, অভিভাবক বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার পক্ষে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মানববন্ধন থেকে অপপ্রচার বন্ধের দাবি করা হয়।
তথ্যসূত্রের জানা যায়, বাট্টাজোড় জিন্না বাজারে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাইট স্কুলে নোটিশ দিয়ে সকাল ১০ ঘটিকা থেকে বিকাল ৫ ঘটিকা পর্যন্ত সকল ক্লাশ বন্ধ করার নির্দেশনা দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা। নোটিশ প্রকাশের পর ব্রাইট স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকার জনসাধারণ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। নোটিশ প্রত্যাহার না করায় ৪৭৭ জন শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা জীবন নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। হতাশ হয় অভিভাবকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার প্রেরিত নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে শিক্ষাথীরা। প্রতিবাদ সমাবেশে শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশে নোটিশ প্রত্যাহারসহ বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার অপসারণ দাবি করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্দুর রহিম বাঙ্গাল মেম্বার, অভিভাবক মিজানুর রহমান, ব্রাইট স্কুলের পরিচালক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, শিক্ষার্থী ব্রাইট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ মিয়া ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু খন্দকার।
অপর দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাসুদ রানার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাট্টাজোড় নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাক এবং একই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন উর রশিদ। উপজেলা নিবাহী অফিসান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার বন্ধের দাবি করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মেরুরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহরিয়ার সুমন, স্কুল ছাত্র মিল্লাত, নিলা বেগম, নাসিম, রেজাউল, তামিম তালুকদার।
এসব ঘটনা চলমান অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা প্রশাসনিক আদেশে বকশীগঞ্জ থেকে বদলী হন এবং
জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ০৫.৪৫.৩৯০০.০০০.০১০.০১.০০০৫.২৫.২০১৫ স্বারক মূলে ২০ আগস্ট অপরাহ্ন থেকে বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে তাকে অবমুক্ত করা হয়। তবে ৩১ আগস্ট রবিবারেও বকশীগঞ্জে অফিস করেছেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে তিনি সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশের কপি সরবরাহ করে বিষয়টি অবগত করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপক্ষে ও পক্ষে মানববন্ধন ও টানাটানিতে আবারও আলোচিত বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা।
উল্লেখ্য উপজেলা নিবাহী অফিসার মাসুদ রানার পূর্ব কর্মস্থলেও নানা অনিয়মের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার গণআন্দোলন হয়েছে। যা দেশের প্রায় সব কয়টি টিভি চ্যানেল, প্রথম শ্রেণির পত্রপত্রিকা,স্থানীয় পত্রপত্রিকা ও সোসাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রায় এক বছর পূর্বে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মাসুদ রানা। বকশীগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পরও তার বিরুদ্ধে শেরপুর বিজ্ঞ আদালতে চাঁদাবাজী মামলা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী, নিজস্ব প্রতিনিধি 









