স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট হাসিনার লজ্জাজনক পতনের পেরিয়েছে ১৩ মাস৷ হাসিনা আমলের দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী মনোভাবের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নেয়া হয়েছে আইনের আওতায়৷ কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে যেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম৷ হাসিনা আমলের দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিরা এখনো দোর্দণ্ড প্রতাপে রামরাজত্ব চালাচ্ছেন৷ তাদেরই একজন ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতা, জাহিদুল ইসলাম৷ পদবীতে তিনি রেলওয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তার পিএস এবং অতিরিক্ত হেটিস্টার হলেও তার ভয়ে তটস্থ থাকতে হয় সকলকে৷ ছাত্রজনতাহত্যায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে মামলা থেকেও রেহাই পেয়েছেন৷
অনুসন্ধান বলছে, জাহিদুল ইসলাম স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শাজাহান খানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ৷ নিজেকে সবসময় পরিচয় দিতেন শেখ হাসিনার লোক হিসেবেই৷ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ অসংখ্য ছবি সেই দাবিকে সত্য প্রমাণ করে৷ আর এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট আমলের পুরো ১৬ বছর রেলওয়ের দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি৷
সরকার পরিবর্তনের পরেও জাহিদুলের টিকিও ছুঁতে পারেনি কেউ৷ দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ গুরুতর অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরেও জাহিদুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি রেলওয়ে৷ এমনকি ছাত্রজনতা হত্যায় তাকে ঢাকার রাস্তায় দেখা গেলেও এখনো বহাল তবিয়তে অফিস করছেন জাহিদুল৷
জাহিদুলের আমলনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পদে পদে ক্ষমতার অপব্যবহার আর দুর্নীতির খতিয়ান৷ রেলওয়েতে আওয়ামী লীগের যেকোনো প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকতো জাহিদুলের উপরেই৷ মন্ত্রী-এমপিদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতও ছিল তার৷ সেই প্রভাবে রেলওয়েকে যেভাবে ইচ্ছে ব্যবহার করেছেন জাহিদুল, অবৈধ আয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়৷
জাহিদুলের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও৷ একাধিক কর্মকর্তা জানান, পটপরিবর্তনের পরেও জাহিদুলের মতো ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীর কাছ থেকে আমরা রক্ষা পাচ্ছি না। ছাত্রজনতা হত্যায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এখনো কীভাবে নির্বিঘ্নে অফিস করেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পাচ্ছি না৷ কিসের বিনিময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জাহিদুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমরা জানতে চাই৷
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মেহেদী রাসেলকে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি৷ খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি উত্তর দেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









