ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে জটিল সমিকরণে বিএনপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) এ অনেকটা নির্ভার বিএনপির প্রার্থী। এখানে তাঁর
বিরুদ্ধে দলে ‘বিদ্রোহ’ নেই। তবে বাকি চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিদ্রোহী এবং একটিতে স্বতন্ত্র জটিলতায় তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। কোথাও
ভোট বিভক্তির আশঙ্কা, কোথাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, কোথাও আবার তুলনামূলক নির্ভার অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছেন প্রার্থী। এরমধ্যে শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া নারায়ণগঞ্জ- ৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির ভোট চার ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২
(আড়াইহাজার), নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) ও
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর)। এই চারটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে বিএনপির ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে জটিল সমীকরণ।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু ধানের শীষ প্রতীকে তুলনামূলক নির্ভার অবস্থানে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় এবং অন্য দল থেকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এখানে বিএনপির অবস্থান বেশ সংহত। এ আসনে জামায়াত জোট থেকে দাড়িপাল্লায় মো: আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখায় মো: ইমদাদুল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে মো: মনিরুজ্জামান চন্দন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে মো: রেহান আফজাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী দলের ঢাকা
বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপিরই সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তিনি এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। এ আসনে জামায়াত জোট থেকে দাড়িপাল্লা নিয়ে মো: ইলিয়াস মোল্লা, ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা নিয়ে মাও. মো: হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ
রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় হাতি প্রতীক, বাংলাদেশের
কমিউনিষ্ট পার্টির মো: হাফিজুল ইসলাম কাস্তে প্রতীক ও গণঅধিকার পরিষদের
ট্রাক প্রতীকে কামরুল মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাও ও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগঁাও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। এখানে ফুটবল প্রতীকে তঁার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং ঘোড়া প্রতীকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, জামায়াত জোট থেকে দাড়িপাল্লায় মো: ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখায় গোলাম মসীহ্, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ নিয়ে আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, এপি পার্টি থেকে ঈগল প্রতীকে আরিফুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ট্রাক নিয়ে মো: ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, গণসংহতি আন্দোলন থেকে মাথাল নিয়ে অঞ্জন দাস ও জনতার দল থেকে কলম প্রতীকে আব্দুল করিম মুন্সী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে খেজুর গাছ প্রতীকে বিএনপি জোটের শরিক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী
হিসেবে রয়েছেন। শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাদের পক্ষে রয়েছে। এছাড়াও জামায়াত জোট থেকে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন শাপলা কলি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির ইকবাল হোসেন কাস্তে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: ইসমাইল হোসেন কাউসার হাতপাখা, জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা
লাঙ্গল, গণঅধিকার পরিষদের আরিফ হোসেন ট্রাক, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী হাতি, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো: সেলিম আহমেদ একতারা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সেলিম মাহমুদ মই এবং বাংলাদেশ জাসদের সোলাইমান দেওয়ান প্রাইভেটকার প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষে বিএনপির প্রার্থী সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে শক্ত লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল মামুন দেয়াল ঘড়ি এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়াও ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাসুম বিল্লাহ হাতপাখা ও গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল সুজন মাথাল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

কাঞ্চন পৌরবাসীর প্রত্যাশা—মেয়র হিসেবে দেখতে চান অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমনকে

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে জটিল সমিকরণে বিএনপি

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) এ অনেকটা নির্ভার বিএনপির প্রার্থী। এখানে তাঁর
বিরুদ্ধে দলে ‘বিদ্রোহ’ নেই। তবে বাকি চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিদ্রোহী এবং একটিতে স্বতন্ত্র জটিলতায় তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। কোথাও
ভোট বিভক্তির আশঙ্কা, কোথাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, কোথাও আবার তুলনামূলক নির্ভার অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছেন প্রার্থী। এরমধ্যে শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া নারায়ণগঞ্জ- ৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির ভোট চার ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২
(আড়াইহাজার), নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) ও
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর)। এই চারটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে বিএনপির ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে জটিল সমীকরণ।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু ধানের শীষ প্রতীকে তুলনামূলক নির্ভার অবস্থানে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় এবং অন্য দল থেকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এখানে বিএনপির অবস্থান বেশ সংহত। এ আসনে জামায়াত জোট থেকে দাড়িপাল্লায় মো: আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখায় মো: ইমদাদুল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে মো: মনিরুজ্জামান চন্দন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে মো: রেহান আফজাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী দলের ঢাকা
বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপিরই সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তিনি এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। এ আসনে জামায়াত জোট থেকে দাড়িপাল্লা নিয়ে মো: ইলিয়াস মোল্লা, ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা নিয়ে মাও. মো: হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ
রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় হাতি প্রতীক, বাংলাদেশের
কমিউনিষ্ট পার্টির মো: হাফিজুল ইসলাম কাস্তে প্রতীক ও গণঅধিকার পরিষদের
ট্রাক প্রতীকে কামরুল মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাও ও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগঁাও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। এখানে ফুটবল প্রতীকে তঁার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং ঘোড়া প্রতীকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, জামায়াত জোট থেকে দাড়িপাল্লায় মো: ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখায় গোলাম মসীহ্, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ নিয়ে আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, এপি পার্টি থেকে ঈগল প্রতীকে আরিফুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ট্রাক নিয়ে মো: ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, গণসংহতি আন্দোলন থেকে মাথাল নিয়ে অঞ্জন দাস ও জনতার দল থেকে কলম প্রতীকে আব্দুল করিম মুন্সী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে খেজুর গাছ প্রতীকে বিএনপি জোটের শরিক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী
হিসেবে রয়েছেন। শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাদের পক্ষে রয়েছে। এছাড়াও জামায়াত জোট থেকে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন শাপলা কলি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির ইকবাল হোসেন কাস্তে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: ইসমাইল হোসেন কাউসার হাতপাখা, জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা
লাঙ্গল, গণঅধিকার পরিষদের আরিফ হোসেন ট্রাক, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী হাতি, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো: সেলিম আহমেদ একতারা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সেলিম মাহমুদ মই এবং বাংলাদেশ জাসদের সোলাইমান দেওয়ান প্রাইভেটকার প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষে বিএনপির প্রার্থী সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে শক্ত লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল মামুন দেয়াল ঘড়ি এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়াও ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাসুম বিল্লাহ হাতপাখা ও গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল সুজন মাথাল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।