ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাটোরের বড়াইগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১০, এলাকায় কড়া নজরদারি

  • প্রতিবেদক এর নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঃ

 

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্থানীয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত বাংলাদেশ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিলেন। এর জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাসিনুর রহমান। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাব সরকারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও দুপুরের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বাজারের দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

কাঞ্চন পৌরবাসীর প্রত্যাশা—মেয়র হিসেবে দেখতে চান অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমনকে

নাটোরের বড়াইগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১০, এলাকায় কড়া নজরদারি

প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঃ

 

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্থানীয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত বাংলাদেশ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিলেন। এর জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাসিনুর রহমান। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাব সরকারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও দুপুরের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বাজারের দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।