ধীরে ধীরে পর্যটক হারাচ্ছে লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র


Sokal Pratidin প্রকাশের সময় : ২৮/০৫/২০২৩, ১১:২৭ অপরাহ্ণ /
ধীরে ধীরে পর্যটক হারাচ্ছে লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি । ধীরে ধীরে পর্যটক হারাচ্ছে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রটি। ভারতের সীমানা ঘেঁষে সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের ভিতর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি তবে সঠিক পর্যবেক্ষণ না করার কারণে ধীরে ধীরে দর্শনার্থী আসা বন্ধ করে দিচ্ছে এই অবসর বিনোদন কেন্দ্রটিতে । জানা যায়, ১৯৯৬ সালে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে তোলে জামালপুর জেলা পরিষদ। সে সময় থেকেই প্রতি বছর লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রে সমাগম ঘটে ভ্রমণ পিয়াসীদের । তবে সঠিক পর্যবেক্ষণ না করার কারণে ধীরে ধীরে পর্যটক হারাচ্ছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। পর্যটকরা বলছেন, বিশাল এই পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে শুধু মাত্র দুইটি ওয়াচ টাওয়ার ও একটি কৃত্রিম লেক। এখানে অভাব রয়েছে বিশুদ্ধ পানির, ক্যান্টিন, মসজিদ ও আধুনিক শেয়ার রাইডার। তাই দিন দিন পর্যটক কমছে এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনোদন কেন্দ্রের ইজারাদাররা। ময়মনসিংহ থেকে ঘুরতে আসা জান্নাতুল ইসলাম জুঁই বলেন, বিশাল এলাকাজুড়ে অবসর বিনোদন কেন্দ্র হলেও এখানে তেমন কিছু নেই ,দেখার মত কিছু নেই পরিবেশটাও তেমন ভালনা । সরকারের উচিত পর্যটক কেন্দ্রটিকে সুনজরে দেখার তাতে করে এখানে পর্যটকদের সমাগণ বাড়বে এবং সরকার রাজস্ব খাতে আর্থিক লাভবান হবেন । তিনি আরো জানান , এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এক সময় ভ্রমণ প্রেমী, প্রকৃতি প্রেমী মানুষ গুলো এই বিনোদন কেন্দ্র আসা বন্ধ করে দেবে । টাঙ্গাইল থেকে ঘুরতে আসা জেসমিন আক্তার মীম বলেন-এখানে শুধু একটা পাহাড়, পাহাড়ের উপর থেকে আসার পরে দেখার আর কিছু নাই। আর এখানে খাবারের পরিবেশটা ভালো না। যদি এই রিসোর্টে খাবারের একটি ক্যান্টিনের ব্যবস্থা থাকতো ভালো হইত । স্থানীয়রা বলছেন- কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন যাবত উন্নয়ন না হওয়ায় ধীরে ধীরে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। লাউচাপড়ার বাসিন্দা রাত্রি বলেন- আমাদের লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্র দীর্ঘ দুই যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এই জায়গায় কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি নাই এবং লাউচাপড়া পর্যবেক্ষণ না করার কারণে দিন দিন পর্যটক শূণ্য হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন, এখন লোকজন না আসলে ব্যবসা আমরা কেমনে করবো? এখন ব্যবসা করুণ অবস্থার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে -আগে বিক্রি করেছি ৫-১০ হাজার টাকা দৈনিক। আর এখন বিক্রি করছি ২-৩ হাজার টাকা। কোনো দিন ৫০০ টাকাও বিক্রি হয় না। আরেক ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, পর্যটক আসে না তাই ব্যবসা একদম কম। ঘর ভাড়াই দিতে পারে না ব্যবসায়ীরা। এইভাবে চলতে থাকলে এখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই । এই বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটক বাড়াতে হলে প্রয়োজন ঝুলন্ত ব্রীজ, বিভিন্ন রাইডারসহ বিনোদনের সকল ব্যবস্থা। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা জয় দাংগো বলেন- “আমাদের স্পটে একটা ঝুলন্ত ব্রীজ করার কথা। যদি সেটাও হয়তো তাহলে দর্শনার্থীরা আমাদের স্পটে আসতো। আর এখানে বড় ধরনের শাপলা, চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হলে আমাদের স্পটে লোক আসতো। লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের ইজারাদারদের একজন ছামিউল মিয়া বলেন-আমরা ২৩ লাখ টাকা দিয়ে এবার বিনোদন কেন্দ্রটি ডেকে নিয়েছি। দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা খুব কম আসছে। এবার কমপক্ষে ৭-৮ লাখ টাকা লস হবে আমাদের। গতবারও আমরা কয়েক লাখ টাকা লস খেয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর কোনো বিনোদন কেন্দ্র ডেকে নিব না। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব বিষয়ে জামালপুর জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন মুন জাহান লিজা বলেন- “লাউচাপড়ার অবসর বিনোদন কেন্দ্র নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এখানে অর্থ প্রাপ্তির বিষয় রয়েছে। বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। আমরা সামনে ইনশাল্লাহ এটার উন্নয়ন করবো। বিনোদন প্রেমীদের দাবি বকশীগঞ্জ লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রটি দর্শকদের জন্য বিনোদনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত এটিকে দর্শকবান্ধব করে তোলা যাবে ততই ভালো। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা মানুষও বিনোদন কেন্দ্রটি ঘুরে আনন্দ পাবে।