ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেংরাকুড়া গ্রামে ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

  • প্রতিবেদক এর নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ নান্নু মিয়া: স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়া জেলার সাড়িয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের টেংরাকুড়া গ্রামে আজও যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। স্থায়ী একটি ব্রিজ না থাকায় এ এলাকার অন্তত এক হাজার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

গ্রামটির চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় জলাশয় ও নদীনালা। ফলে গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে যেতে হলে নৌকাই একমাত্র উপায়। কেউ অসুস্থ হলে বা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে গেলেও রোগীকে আগে নৌকায় করে পার হতে হয়। রাতের বেলায় পারাপার বন্ধ থাকলে অসুস্থ মানুষকে ওপারে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

গ্রামবাসীরা বলেন, “অনেকবার শুনেছি এখানে ব্রিজ হবে, কিন্তু আজও কাজ শুরু হয়নি। বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার সময় খুব কষ্ট পায়, বৃষ্টি হলে তো আরও বিপদ।”

একই কথা বলেন এলাকাবাসীর অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। নৌকায় পারাপারের ঝুঁকিতে অনেক অভিভাবক ছোট সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পান না। বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার বন্ধ থাকে। ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও কমে যায়।

কৃষকরাও পড়ছেন বিপাকে। ফসল বাজারে নিতে নৌকায় পারাপারের কারণে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ছে। বাজারে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে কৃষিপণ্য।

এছাড়া, স্থানীয়দের ভাষায়, বর্ষা মৌসুমে নৌকা দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকেই যায়। বিশেষ করে রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় পারাপার বন্ধ থাকায় এলাকাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, টেংরাকুড়া গ্রামে ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা চেষ্ঠা করে যাচ্ছি দ্রুত সময়ে আমরা একটা ব্যাবস্থা নিবো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াত নয়, পুরো এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

taipur rahman

জামালপুরে জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন।

টেংরাকুড়া গ্রামে ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ নান্নু মিয়া: স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়া জেলার সাড়িয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের টেংরাকুড়া গ্রামে আজও যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। স্থায়ী একটি ব্রিজ না থাকায় এ এলাকার অন্তত এক হাজার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

গ্রামটির চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় জলাশয় ও নদীনালা। ফলে গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে যেতে হলে নৌকাই একমাত্র উপায়। কেউ অসুস্থ হলে বা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে গেলেও রোগীকে আগে নৌকায় করে পার হতে হয়। রাতের বেলায় পারাপার বন্ধ থাকলে অসুস্থ মানুষকে ওপারে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

গ্রামবাসীরা বলেন, “অনেকবার শুনেছি এখানে ব্রিজ হবে, কিন্তু আজও কাজ শুরু হয়নি। বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার সময় খুব কষ্ট পায়, বৃষ্টি হলে তো আরও বিপদ।”

একই কথা বলেন এলাকাবাসীর অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। নৌকায় পারাপারের ঝুঁকিতে অনেক অভিভাবক ছোট সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পান না। বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার বন্ধ থাকে। ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও কমে যায়।

কৃষকরাও পড়ছেন বিপাকে। ফসল বাজারে নিতে নৌকায় পারাপারের কারণে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ছে। বাজারে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে কৃষিপণ্য।

এছাড়া, স্থানীয়দের ভাষায়, বর্ষা মৌসুমে নৌকা দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকেই যায়। বিশেষ করে রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় পারাপার বন্ধ থাকায় এলাকাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, টেংরাকুড়া গ্রামে ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা চেষ্ঠা করে যাচ্ছি দ্রুত সময়ে আমরা একটা ব্যাবস্থা নিবো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াত নয়, পুরো এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে।