জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে ইদানিং বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে এই এলাকায় ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর ভোটার ও সমর্থকদের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহ এবং বড় দলগুলোর প্রতি এক ধরণের অনীহা থেকেই এই পরিবর্তনের সূচনা। যার কারনে তৃণমূল পর্যায়ে বাড়ছে দলগুলোর সক্রিয়তা।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জে উপজেলায় ০৮ ইউনিয়ন এবং ০১ টি পৌরসভা রয়েছে।
এই উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৮৮,১৬৬ জন তার মধ্যে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৮০ জন।
অপরদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা ০৭ টি ইউনিয়ন ও ০১ টি পৌরসভা রয়েছে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বকশীগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৩৯,৮৫৭ জন আর ভোটার সংখ্যা প্রায় ১,৮২৮৯১ জন।
এই আসনে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নৌকা প্রতিকে ০৬ বার বিএনপি ধানের শীষ প্রতিকে ০২ বার জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতিকে ০১ বার মুসলিম লীগ হারিকেন প্রতিকে ০১ বার ও সতন্ত্র ০২ বার বিজয়ী হয়েছিল। সেই হিসেবে এই আসনে অতীতে আওয়ামীলীগের আধিপত্য বজায় ছিল কিন্তু বর্তমানে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ইসলামী দলগুলোর যেমন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও অন্যান্য সমমনা দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে কয়েকগুন। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের আদর্শ প্রচারের সুযোগ পেয়েছে যার কারনে এই অঞ্চলের সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, প্রচলিত ধারার রাজনীতির চেয়ে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতি সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে বেশি কার্যকর হবে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে দলগুলোও পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক এবং সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পাড়া, মহল্লায়, গ্রামগঞ্জে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অপরদিকে আরেক হেভি ওয়েট প্রার্থী বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদিয়ে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচন করছেন। তাই জামালপুর-১ আসনে সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
অবশ্য এই অঞ্চলের মানুষ ইসলামী দল বলতে জামায়াতে ইসলামী অর্থাৎ দাঁড়িপাল্লা প্রতীককেই বুঝিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ মনে করে হুজুরদের দল মানেই জামায়াতে ইসলামী। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, সমর্থক ও ভোটার বৃদ্ধির হার বড় দল যেমন বিএনপি’র জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আগে যেখানে মূল লড়াই হতো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে, সেখানে এই অঞ্চলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান একটি শক্তিশালী ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে বকশীগঞ্জের দুর্গম চরাঞ্চল এবং দেওয়ানগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই দলের ভোটব্যাংক নির্বাচনে জয় পরাজয়ের ভূমিকা রাখবে।
বকশীগঞ্জ বাজারের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, মানুষ এখন শান্তি চায় মানুষ মনে করে ইসলামী আদর্শের অনুসারীরা ক্ষমতায় বা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে সমাজে ইনসাফ কায়েম হবে, এই বিশ্বাস থেকেই মানুষ এখন দলে দলে জামায়াতে ইসলামী দিকে ঝুকে পড়ছে।
এ দিকে বকশীগঞ্জ দেওয়ানগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে আগামী নির্বাচনে জামালপুর-১ আসনে চমক দিতে পারে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী।
মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী, নিজস্ব প্রতিনিধি 














