বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জামালপুর -০১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) সংসদীয় আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী এডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদীকে জরিয়ে যে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন দাবি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফ উদ্দিন
৩১ আগস্ট (রবিবার) নিজ বাসভবনে এমনটাই দাবী করেন তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফ উদ্দিন বলেন পরিকল্পিতভাবে একজন সম্মানী ব্যক্তির সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।
এখানে এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদীর কোন ভূমিকা নেই।
তিনি বলেন প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে বকশীগঞ্জ উপজেলার রাজেন্দ্রগঞ্জ মৌজায় বি আর এস রেকর্ডীয় মালিক আব্দুর রহমান এর ওয়ারিশের নিকট হতে ৩২০৬ দাগের ২৫ শতাংশ জমি প্রায় ২০/২৫ বছর পূর্বে নাজমুল হক সাঈদীর স্ত্রী রওশন জাহান ক্রয় সূত্রে মালিক হন। উক্ত সম্পত্তি আমার ভাতিজা অর্থাৎ যারা সাংবাদিক সম্মেলন যারা করেছে তারা জোরপূর্বক জবর দখল করে রাখে এবং উক্ত মৌজা বিআরএস ৩২০৫ দাগের জমি দখল দেয়। ৩২০৫ দাগের জমিও আব্দুর রহমানের নামে এস এ রেকর্ড বিদ্যমান থাকলেও বিআরএস রেকর্ড খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়। রৌশন জাহানের প্রকৃত সম্পত্তি হচ্ছে বিআরএস ৩২০৬ দাগের সুতরাং সে উল্লেখিত দাগের জমি বুঝ নিবে এটাই স্বাভাবিক। রওশন জাহান উক্ত সম্পত্তি বুঝ লইয়া ইতিপূর্বেই সীমানা নির্মাণ বাউন্ডারি ওয়াল করে রেখেছে আমার ভাতিজাই বিভিন্ন সময় অসময়ে রৌশন জাহানের জমি বেদখল করার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি মুচলিকা দিয়ে এসেছে যে উক্ত সম্পত্তিতে কোনদিন দখলের উদ্দেশ্যে আমরা যাব না। সংবাদ সম্মেলনে যা দাবি করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। কোন মারামারি বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি কারণ নাজমুল হক সাঈদীর সহ তারা কেউ এখানে উপস্থিত ছিল না। আমার ভাতিজারা তৃতীয় ব্যক্তির প্ররোচনায় একজন সম্মানী ব্যক্তির সম্মান ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে জামায়াত নেতা নাজমুল হক সাঈদীর প্রত্যক্ষ মদদে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ১৩ শতাংশ ভুমি দখলের যে অভিযোগ জনৈক ব্যক্তি কর্তৃক আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক বানোয়াট ও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করত সত্য ধামাচাপা দেয়ার অপপ্রয়াস মাত্র বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন সংবাদ সন্মেলনে কথিত ভুক্তভোগী পরিবার বলে উল্লেখিত পরিবার কিংবা উল্লেখিত ১৩ শতাংশ ভুমির সাথে সংশ্লিষ্ট কথিত দখলকারীর সাথে আমার বা জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পৃক্ততা নেই অথবা দাবীকৃত প্রক্রিয়াধীন মামলার বাদী কিংবা বিবাদীও আমি অথবা জামায়াতে ইসলামী নয় কাজেই উল্লেখিত সংবাদ সন্মেলনে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে জামায়াতে ইসলামীর নাম এবং আমার নাম জড়ানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং সব কিছুতেই জামায়াতকে টেনে আনার মহল বিশেষের চিরায়ত রোগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ সন্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে তার সঠিক সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কামনা করে তিনি বলেন এ ধরনের কোন অপরাধ সংঘটিত হবার খবর আমাদের বা এলাকাবাসীর জানা নেই। এমনটি হয়ে থাকলে আইনানুগ ভাবে তার তদন্ত ও বিচার আমরাও চাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আর সরেজমিন ঘুরে এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় উক্ত স্থানে মারামারি এবং মহিলাদের শ্লীলতাহানির মত কোন ঘটনা ঘটেনি। এস এ রেকর্ড এজমালিতে হওয়ার কারণে একটা পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে বিআরএস রেকর্ড কারেকশনের মামলা করে প্রকৃতপক্ষে যারা বিআরএস রেকর্ড কারেকশনের মামলা করেছে তারা এসএ রেকর্ড মূলে এসএ রেকর্ডীয় দাগে তাদের মালিকানার জমি নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগদখলে রহিয়াছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী, নিজস্ব প্রতিনিধি 









