ঢাকা, শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২

ক্ষুদ্র ঋণদান সমিতির নামে প্রতারণা, দুই প্রতারক কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব- ৪।

অনলাইন ডেস্ক

আজিজঃ

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানাধীন কাকনা বাজার এলাকা হতে প্রতারণার অভিযোগে কথিত ক্ষুদ্র ঋণদান সমিতির সভাপতি মোঃ রবিউল আলম @ আদম (৩৩) ও তার ০১ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানাধীন কাকনা বাজার এলাকার কতিপয় ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানাধীন ধামশ্বর ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের কাকনা বাজারের একটি অফিসে অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণার দায়ে ‘‘মুনলাইট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ও পল্লী উন্নয়ন সমিতি লিঃ এর সভাপতি মোঃ রবিউল আলম @ আদম (৩৩) সহ মোট ০২ জনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।

উল্লেখ্য যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড হিসেবে রেজিস্টার্ডভুক্ত হলেও প্রতারণামূলকভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয় ভুয়া নামে প্রচার ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো।

উক্ত ভুয়া সমিতির ২০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো রক্ষিত জামানত নেই বলে তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযান কালে উক্ত কথিত ও ভুয়া অফিসদ্বয় হতে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী যেমনঃ ভর্তি ফরম, ঋণ প্রহীতার ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের জীবন বৃত্তান্ত, লিফলেট, সিল, বিভিন্ন নামে সঞ্চয় পাশবই, অব্যবহৃত পাশ বই, দৈনিক কিন্তি ও ঋণ বিতরণের বিভিন্ন রেজিষ্টার, অব্যবহৃত ষ্ট্যাম্প, দৈনিক কিন্তি আদায়ের শিট, ঋণের আবেদনপত্র, সঞ্চয় ও ঋণ পাশ বই, মনিটর, সিপিইউ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলোঃ
ক। মোঃ রবিউল আলম @ আদম (৩৩), জেলা- মানিকগঞ্জ।

খ। মোঃ বিদ্যুৎ হোসাইন (২৫), জেলা- মানিকগন্জ। এই প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী/সদস্যদের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ব্যক্তি, মনোহরী ও ফুটপাতের দোকানদার, গৃহকর্মী ও নিম্নআয়ের মানুষদের টার্গেট করে ঋণের লোভ দেখিয়ে সঞ্চয়ের নামে তাদের কোম্পানী’তে বিনিয়োগ/ডিপিএস করতে উদ্বুদ্ধ করে।

ভিকটিমদের প্রলুব্ধকরণ ও সঞ্চয় সংগ্রহঃ এরা ভুক্তভোগীদেরকে প্রলুব্ধ ও বিভিন্ন তথ্যাদি সংগ্রহ করে নানান কৌশলে ভুলিয়ে প্রতারক চক্রের অফিস কার্যালয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে।

‘‘মুনলাইট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ও পল্লী উন্নয়ন সমিতি লিঃ এর নামে তারা প্রতিদিন আনুমানিক ৩০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে।

স্বল্প সময়ে ঋণ প্রদানের প্রলোভনঃ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে অল্প সময়ে ঋণ প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে ‘‘মুনলাইট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ও পল্লী উন্নয়ন সমিতি লিঃ এ সঞ্চয়/বিনিয়োগ/ডিপিএস করতে আগ্রহী করে আসছিলো।

ভুক্তভোগীদের বলা হতো ১০-১৫ দিন ঠিকমত নির্দিষ্ট হারে সঞ্চয় প্রদান করলে তাদেরকে ঋণ প্রদান করা হবে, যাতে করে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারে।

কিন্তু ভূক্তভোগীদের দু’একজনকে ঋণ দিলেও কেউ সঞ্চয় থেকে ঋণ পেতো না।

ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহঃ এ কোম্পানির কিছু সদস্য দৈনিক ভিত্তিতে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়/ডিপিএস এর টাকা সংগ্রহ করতো।

ভুক্তভোগীদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো, তারা যদি সময়মত সঞ্চয়/ডিপিএস এর টাকা না পরিশোধ করে তাহলে তাদেরকে সঠিক সময়ে ঋণ প্রদান করা হবেনা বা মেয়াদ শেষে তারা মুনাফা কম পাবে এবং জরিমানাও করা হবে।

ফ্ল্যাট/জমি দেয়ার আশ্বাসঃ প্রতারণার আর একটি কৌশল হিসেবে ভূক্তভোগীদেরকে বুঝানো হতো যে দৈনিক মাত্র ২০০/৩০০ টাকা করে জমা করলে একসময় মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানা শহরে তাদের একটি করে ফ্ল্যাট বা জমি দেওয়া হবে।

প্রতারক চক্রটি ‘‘মুনলাইট ক্ষুদ্রে ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এবং ভুয়া ও অনুমোদনবিহীন ‘‘পল্লী উন্নয়ন সমিতি লিঃ” কে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বলে মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করতো।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন ঠাকুরগাঁওয়ে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি..


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর