এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ


Munna প্রকাশের সময় : ০৯/০২/২০২৩, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ /
এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সনমান্দি ইউনিয়নের অলিপুরা খাল খননে প্রকৌশলীকে বাজেটের ৩০ শতাংশ টাকা উৎকোচ না দেওয়ার কারণে খাল খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া

হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সোনারগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে খাল খনন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে অলিপুরা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যরা খনন কাজ বন্ধ করে দেন। এতে ঐ এলাকায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোনারগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ সদস্য ও নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি নারায়ণগঞ্জের মৌখিক নির্দেশ মোতাবেক খাল খনন কাজে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এবং জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলো। তবে সরেজমিন গিয়ে কৃষকদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বরং খাল খনন কাজ বন্ধ রাখার কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের উৎপাদিত সবজি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ ইউনিয়নের বিভিন্ন খালগুলো পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা দখল করে রেখেছেন। এ খাল খননের মাধ্যমে দখলমুক্ত করে কৃষককে ফসল উৎপাদনে সাহায্য করতে জাইকার অর্থায়নে আড়াই কোটি টাকার খাল ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঐ টাকার মধ্যে ৫৫ লাখ টাকা খাল খননে ব্যয় হবে। খাল খনন শেষে সুইচগেট, দ্বিতল ভবন ও ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কয়েকজন কৃষক জানান, এ খালটি খনন হলে সারা বছর খালে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। এ খালের পানির মাধ্যমে ইরি বোরো ও চার ফসলি সবজি উৎপাদন সহজ হবে।

অলিপুরা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ মিয়া বলেন, খাল খননের আগে সোনারগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী আমাদের পরিচালনা কমিটির লোকজনকে ডেকে বন্দর ও আড়াইহাজার উপজেলার খাল খননের ৩০ শতাংশ টাকা ঐ এলাকার প্রকৌশলীকে দিতে বলেছেন। তাকে এ প্রকল্প থেকে এ টাকা দিতে হবে। আমরা টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। তাই তিনি কৌশলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সোনারগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক বলেন, চিঠিতে সব লিখে দিয়েছি। এখানে আমার পুনরায় কিছু বলার নেই। উৎকোচ চাওয়ার বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা না বলে সরাসরি কথা বলার জন্য অফিসে যেতে বলেন।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজওয়ান উল ইসলাম বলেন, খাল খননকাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে চিঠি ইস্যু হয়েছে জেনেছি। চিঠি পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।