আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বন্দরে সন্ত্রাসী কায়দায় ইট ভাটা দখল


Sokal Pratidin প্রকাশের সময় : ০১/১১/২০২৩, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ / ০ Views
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বন্দরে সন্ত্রাসী কায়দায় ইট ভাটা দখল

বন্দর সংবাদদাতা : আদালতের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে বন্দরের কেওঢালা এলাকায় ২২ বিঘা জমিতে গড়ে তুলা একটি ইট ভাটা দখল করে নিয়েছে সঞ্জিত কুমার দাস ও তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা। গতকাল বুধবার সকালে ইট ভাটাটি দখল করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে আদালতে মামলা করার পরও বেদখল হয়ে পড়ায় কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছেন ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ জানান তিনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের মদনপুর ইউনিয়নের বাগদোবাড়িয়া এলাকায় মেসার্স সোনারগাঁও টাটা ব্রিক্স ফিল্ড নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন একই এলাকার সাতাব উদ্দিনের ছেলে আমান উল্লাহ ও মৃত আলমাছ আলীর ছেলে অলিউল্লাহ। সোনারগাঁ উপজেলার কৃষ্ণপুরা এলাকার মৃত শ্রীপতি কুমার দাসের ছেলে সঞ্জিত কুমার দাসের সাথে বিগত ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই ৩ বছর মেয়াদে রানিং ক্যাপিটাল পার্টনার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ দলিল করে ২২ বিঘা জমিতে ইট ভাটাটি গড়ে তুলা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে দ্বিতীয় দফা ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তিপত্র দলিলের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।

মেয়াদ বৃদ্ধিরপর আমান উল্লাহ প্রায় ৩ লাখ ফুট কাঁচা মাটি(মূল্য ৬০ লাখ টাকা), ২ লাখ ইট মজুত(মূল্য ২০ লাখ টাকা), ১০ লাখ টাকা ছাক ও বালি, ৫ লাখ টাকার মেশিনারীজ মালামাল, শ্রমিক সর্দারকে ১৫ লাখ টাকা দাদন হিসেবে বিনিয়োগ করেন। পাশাপাশি ইট দেওয়ার শর্তে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম নেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এমতাবস্থায় চুক্তির মেয়াদ শেষ না হতেই সঞ্জিত কুমার দাস বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকদের ম্যানেজ করে আইনগত পন্থা ব্যতিত অন্যায়ভাবে জোর পূর্বক ইট ভাটা দখল করে আমান উল্লাহকে তাড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৯ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে ইট ভাটা দখলের চেষ্টা করে। প্রতিষ্ঠানটি বেদখল হয়ে পড়লে আমান উল্লাহ কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ থেকে রক্ষা পেতে সঞ্জিত কুমার দাসকে বিবাদী করে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটট আদালতে পিটিশন মামলা করেন।

যার নং-৬১১/২০২৩। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বন্দর থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশ পাওয়ার পর বন্দর থানার উপ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইট ভাটার জমিতে বাদীর কিছু অংশ রয়েছে। বাকি অংশ ভাড়া। বিবাদীর সাথে করা চুক্তির মেয়াদ ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি বজায় থাকলেও পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পর বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার জন্য আদালত আদেশ দিলে সাইনবোর্ড লাগায় বাদীপক্ষ।

আমান উল্লার অভিযোগ, গতকাল বুধবার সকালে সঞ্জিত কুমার দাসের পক্ষ হয়ে একদল সন্ত্রাসী ইট ভাটায় গিয়ে অফিসে হামলা চালায়। তারা তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আমান উল্লার লোকজনকে বের করে দেয়।
এবিষয়ে জানতে সঞ্জিত কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।