ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অন্ন জোগায় নারী-প্লাবনী ইয়াসমিন

  • প্রতিবেদক এর নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শফিকুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রাচীন যুগে যেখানে নারীর হাতে বোনা বীজ দিয়ে চাষাবাদের প্রচলন হয়েছে, মানুষ পশুপালন সভ্যতা থেকে কৃষি সভ্যতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে, সেখানে কৃষিক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়। গ্রাম বাংলার নারীদের কাছেও অনেক কাজের মধ্যে কৃষিই গুরুত্বপূর্ণ। বীজ সংরক্ষন ও বপন থেকে শুরু করে, চারা রোপণ, সেচ, ফসল উত্তলন এমনকি বিপণনেও নারীরা এককভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী কৃষকের অবদান নতুন করে আলোচনার কোনো অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে গ্রামীণ নারী কৃষকদের এই অবদান যে কেবলমাত্র খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে তা নয়। মানুষের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা একটি আবশ্যক ধারা। অনেকে মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম সূচক। এতে কোনো দেশের মর্যাদা যেমন বাড়ে- অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত আছেন ৬৮.১ শতাংশ নারী। নারী তার নিজ যোগ্যতায় কৃষিখাতের হাল ধরছেন।কিন্তু, কৃষিতে নারীর ভূমিকা শুধু “সাহায্যকারী” হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হিসেবে নয়। তবে কষ্টের বিষয় হল, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কৃষিখাতে এ বিপুল জনগোষ্ঠীর দেয় শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। যেসব নারীরা দিনমজুর হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ করে তারা প্রতিনিয়তই মজুরী বৈষম্যের শিকার হয়, সেই সাথে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে তাদেরকে কাজে নিয়জিত রাখা এবং অন্যান্য মানসিক নিপীড়ন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী, নারীপুরুষের সমকাজে সমান মজুরি প্রদানের কথা থাকলেও, চারা রোপণ ও ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে পুরুষদের দৈনিক মজুরি যেখানে ৬০০ টাকা, নারীরা সেখানে পায় মাত্র ৩৫০ টাকার মতো। কাজেই, আপাতদৃষ্টিতে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পেছনে নারীর ক্ষমতায়নের কথা মনে হলেও এর মূল নেপথ্যে রয়েছে স্বল্প মজুরি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করানোর সুবিধা।এদিক দিয়ে যারা নিজ জমিতে শ্রম দেয়, তাদের চাষাবাদের কাজে নিযুক্ত হবার বিষয়টি বর্তমান সভ্য সমাজেও নারীদের প্রাত্যহিক কাজের অংশ হিসেবেই ধরা হয়, মজুরী প্রদানের বিষয়টি সেখানে নিতান্তই হাস্যকর। বাংলাদেশ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ তে, নারীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রণীত ২২ টি লক্ষ্যের মধ্যে নবম লক্ষ্যটি হল সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা, কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কৃষিখাতে নারী শ্রমিকের কোন বৈধ পরিচিতি নেই। পাঠ্যপুস্তকের কবিতায় কিষাণ–কিষাণী শব্দের ব্যবহার থাকলেও, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ‘কিষাণী’ শব্দটির কোন ব্যবহার নেই। তবে কি ধরে নেওয়া যায়, নারীর কাজের মর্যাদা পূর্বের তুলনায় কমে গেছে নাকি সাহিত্যিকরাই কেবল তাদের কাজের মূল্যায়ন করতে পারে, তাদের আর্থ-সামাজিক নিপীড়নের কথা লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে পারে? সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব যাদের, তাদের কি কিছু করার নেই নারীর কাজের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে? ৮ মার্চ জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর অধিকার ও মর্যাদা উদযাপনের জন্য নির্ধারিত দিন। বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ গ্রামীণ নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজে জড়িত। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের প্রাক্কালে গ্রামীণ নারীদের কথা, তাদের অবদান এবং লড়াইয়ের কথাগুলো আলোচনায় থাকাটা হবে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।বাংলাদেশের কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান বীরযোদ্বা মূলত নারীরাই। তাই নারী দিবসের সকল আয়োজন, আলোচনা কেবলমাত্র শহরে মধ্যবিত্ত নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে আনতে হবে, এবং সম্মান জানানো প্রয়োজন আমাদের খাদ্য লড়াইয়ের বীর নারীযোদ্ধাদের। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ, আমেরিকায় নারীরা তাদের যেসব মৌলিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিল তার কততুকু ২০২২ তে এসে বাস্তবায়িত হয়েছে!১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কৃষিতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে “অন্ন জোগায় নারী” শ্লোগানটি নির্ধারণ করেছিল। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান মতে, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মিলিয়ে কৃষিতে নারী কৃষকের হার ৪৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়, তার ৮০ শতাংশই আসে পারিবারিক কৃষি থেকে। চাষের জন্য জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণের পূর্ব পর্যন্ত কৃষিখাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭টিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন কৃষি-প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে নারী কৃষকের পক্ষে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রণীত কৃষিনীতিতে “নারী ক্ষমতায়ন” শিরোনামে একটি অধ্যায় সংযুক্ত হয়েছে এবং নারীকৃষকরা “কৃষিকার্ড” পাওয়া শুরু করেছেন; যা প্রশংসনীয়। কিন্তু কৃষিনীতিতে “নারীর ক্ষমতায়ন” শিরোনামে যে অধ্যায়টি সংযুক্ত হয়েছে সেখানে নারীদের অবদানের কথা এবং বিভিন্ন ধরণের সেবাপ্রাপ্তির বিষয়ে বলা হলেও “নারী- কৃষক” স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সরকারি কৃষি উপকরণ প্রদানের ক্ষেত্রে যে বৃহৎ সংখ্যাক প্রান্তিক কৃষকের নাম দেখা যায় সেখানেও নারী কৃষকরা উপেক্ষিত থাকছেন; আবার যাদের নাম রয়েছে সেটিও শুধু তালিকায় নাম দেখানো বা কার্ড পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।কৃষিতে কর্মরত নারীদের কৃষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করতে হবে তাদের প্রত্যক্ষ অবদানকে।আমাদের দেশে মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী। আর নারী শ্রমশক্তির মধ্যে ৭০ শতাংশ কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সাথে জড়িত। কৃষি ও এর উপখাতের মূল চালিকাশক্তি নারী। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যানে নারীর এ উপস্থিতির হিসাব নেই।গ্রামে বসবাসরত প্রতিটি নারীই নিজ নিজ পরিবারে কৃষি ও কৃষিকাজের সাথে জড়িত।প্রত্যক্ষভাবে কৃষিখামার কিংবা কৃষিজমিতে কাজ করা নারীর সংখ্যা কম হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক নারীকে এই খাতে শ্রম দিতে হয়। পারিবারিক প্রতিপত্তি ও সামাজিক মর্যাদার কারণে নারীরা নিজের ঘরে কিংবা খামারে পরিশ্রম করলেও তা প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খবর টি শেয়ার করুন :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Munna Khan

সর্বাধিক পঠিত

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

অন্ন জোগায় নারী-প্লাবনী ইয়াসমিন

প্রকাশের সময় : ১১:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ শফিকুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রাচীন যুগে যেখানে নারীর হাতে বোনা বীজ দিয়ে চাষাবাদের প্রচলন হয়েছে, মানুষ পশুপালন সভ্যতা থেকে কৃষি সভ্যতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে, সেখানে কৃষিক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়। গ্রাম বাংলার নারীদের কাছেও অনেক কাজের মধ্যে কৃষিই গুরুত্বপূর্ণ। বীজ সংরক্ষন ও বপন থেকে শুরু করে, চারা রোপণ, সেচ, ফসল উত্তলন এমনকি বিপণনেও নারীরা এককভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী কৃষকের অবদান নতুন করে আলোচনার কোনো অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে গ্রামীণ নারী কৃষকদের এই অবদান যে কেবলমাত্র খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে তা নয়। মানুষের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা একটি আবশ্যক ধারা। অনেকে মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম সূচক। এতে কোনো দেশের মর্যাদা যেমন বাড়ে- অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত আছেন ৬৮.১ শতাংশ নারী। নারী তার নিজ যোগ্যতায় কৃষিখাতের হাল ধরছেন।কিন্তু, কৃষিতে নারীর ভূমিকা শুধু “সাহায্যকারী” হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হিসেবে নয়। তবে কষ্টের বিষয় হল, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কৃষিখাতে এ বিপুল জনগোষ্ঠীর দেয় শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। যেসব নারীরা দিনমজুর হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ করে তারা প্রতিনিয়তই মজুরী বৈষম্যের শিকার হয়, সেই সাথে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে তাদেরকে কাজে নিয়জিত রাখা এবং অন্যান্য মানসিক নিপীড়ন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী, নারীপুরুষের সমকাজে সমান মজুরি প্রদানের কথা থাকলেও, চারা রোপণ ও ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে পুরুষদের দৈনিক মজুরি যেখানে ৬০০ টাকা, নারীরা সেখানে পায় মাত্র ৩৫০ টাকার মতো। কাজেই, আপাতদৃষ্টিতে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পেছনে নারীর ক্ষমতায়নের কথা মনে হলেও এর মূল নেপথ্যে রয়েছে স্বল্প মজুরি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করানোর সুবিধা।এদিক দিয়ে যারা নিজ জমিতে শ্রম দেয়, তাদের চাষাবাদের কাজে নিযুক্ত হবার বিষয়টি বর্তমান সভ্য সমাজেও নারীদের প্রাত্যহিক কাজের অংশ হিসেবেই ধরা হয়, মজুরী প্রদানের বিষয়টি সেখানে নিতান্তই হাস্যকর। বাংলাদেশ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ তে, নারীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রণীত ২২ টি লক্ষ্যের মধ্যে নবম লক্ষ্যটি হল সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা, কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কৃষিখাতে নারী শ্রমিকের কোন বৈধ পরিচিতি নেই। পাঠ্যপুস্তকের কবিতায় কিষাণ–কিষাণী শব্দের ব্যবহার থাকলেও, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ‘কিষাণী’ শব্দটির কোন ব্যবহার নেই। তবে কি ধরে নেওয়া যায়, নারীর কাজের মর্যাদা পূর্বের তুলনায় কমে গেছে নাকি সাহিত্যিকরাই কেবল তাদের কাজের মূল্যায়ন করতে পারে, তাদের আর্থ-সামাজিক নিপীড়নের কথা লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে পারে? সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব যাদের, তাদের কি কিছু করার নেই নারীর কাজের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে? ৮ মার্চ জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর অধিকার ও মর্যাদা উদযাপনের জন্য নির্ধারিত দিন। বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ গ্রামীণ নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজে জড়িত। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের প্রাক্কালে গ্রামীণ নারীদের কথা, তাদের অবদান এবং লড়াইয়ের কথাগুলো আলোচনায় থাকাটা হবে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।বাংলাদেশের কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান বীরযোদ্বা মূলত নারীরাই। তাই নারী দিবসের সকল আয়োজন, আলোচনা কেবলমাত্র শহরে মধ্যবিত্ত নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে আনতে হবে, এবং সম্মান জানানো প্রয়োজন আমাদের খাদ্য লড়াইয়ের বীর নারীযোদ্ধাদের। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ, আমেরিকায় নারীরা তাদের যেসব মৌলিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিল তার কততুকু ২০২২ তে এসে বাস্তবায়িত হয়েছে!১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কৃষিতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে “অন্ন জোগায় নারী” শ্লোগানটি নির্ধারণ করেছিল। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান মতে, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মিলিয়ে কৃষিতে নারী কৃষকের হার ৪৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়, তার ৮০ শতাংশই আসে পারিবারিক কৃষি থেকে। চাষের জন্য জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণের পূর্ব পর্যন্ত কৃষিখাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭টিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন কৃষি-প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে নারী কৃষকের পক্ষে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রণীত কৃষিনীতিতে “নারী ক্ষমতায়ন” শিরোনামে একটি অধ্যায় সংযুক্ত হয়েছে এবং নারীকৃষকরা “কৃষিকার্ড” পাওয়া শুরু করেছেন; যা প্রশংসনীয়। কিন্তু কৃষিনীতিতে “নারীর ক্ষমতায়ন” শিরোনামে যে অধ্যায়টি সংযুক্ত হয়েছে সেখানে নারীদের অবদানের কথা এবং বিভিন্ন ধরণের সেবাপ্রাপ্তির বিষয়ে বলা হলেও “নারী- কৃষক” স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সরকারি কৃষি উপকরণ প্রদানের ক্ষেত্রে যে বৃহৎ সংখ্যাক প্রান্তিক কৃষকের নাম দেখা যায় সেখানেও নারী কৃষকরা উপেক্ষিত থাকছেন; আবার যাদের নাম রয়েছে সেটিও শুধু তালিকায় নাম দেখানো বা কার্ড পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।কৃষিতে কর্মরত নারীদের কৃষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করতে হবে তাদের প্রত্যক্ষ অবদানকে।আমাদের দেশে মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী। আর নারী শ্রমশক্তির মধ্যে ৭০ শতাংশ কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সাথে জড়িত। কৃষি ও এর উপখাতের মূল চালিকাশক্তি নারী। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যানে নারীর এ উপস্থিতির হিসাব নেই।গ্রামে বসবাসরত প্রতিটি নারীই নিজ নিজ পরিবারে কৃষি ও কৃষিকাজের সাথে জড়িত।প্রত্যক্ষভাবে কৃষিখামার কিংবা কৃষিজমিতে কাজ করা নারীর সংখ্যা কম হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক নারীকে এই খাতে শ্রম দিতে হয়। পারিবারিক প্রতিপত্তি ও সামাজিক মর্যাদার কারণে নারীরা নিজের ঘরে কিংবা খামারে পরিশ্রম করলেও তা প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।