ছাত্রজীবনে আমার জীবনের অন্যতম সোনালী অধ্যায় হলো সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকা। আমি তখন কেবল পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলাম না, বরং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতাম। বিশেষ করে বিনামূল্যে রক্তদান, বৃদ্ধাশ্রম , শীতকালে দুঃস্থদের জন্য কম্বল বিতরণ, দুর্যোগে ত্রাণ সরবরাহ—এই সমস্ত কার্যক্রমে আমি নিয়মিতভাবে যুক্ত ছিলাম। সেই সময়ে প্রতিটি কাজ শুধু সময় কাটানোর একটি মাধ্যম ছিল না; বরং এটি আমাকে মানুষের প্রতি সহানুভূতি, সমাজের সমস্যা বোঝার ক্ষমতা, এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।
পুরনো অ্যালবাম খুঁজতে গিয়ে যখন সেই সময়ের ছবি দেখি, তখন মনে হয় যেন সময়ের চাকাটি পিছিয়ে গেছে। ছবিগুলোতে আমার এবং অন্যান্য সহপাঠীদের হাসি, আনন্দ, একে অপরের প্রতি সহযোগিতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার উৎসাহ —সবকিছু যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। রক্তদান শিবিরের ছবিতে আমি নিজের হাতের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সাহায্য করতে দেখছি, আর হৃদয়কে এক অদ্ভুত গর্ব ও আনন্দ ভর করছে। শিশুদের জন্য আয়োজন করা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ছবি দেখলে মনে হয় যেন আমি আবার তাদের খুশিতে ভরে যাওয়া চোখগুলো দেখতে পাচ্ছি।
সেই সময়ের স্মৃতিগুলো শুধু আনন্দের নয়, শিক্ষণীয়ও। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমি শিখেছিলাম দলগত উদ্যোগের শক্তি, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, এবং জীবনের প্রকৃত মূল্য বোঝার গুরুত্ব। অনেক সময় আমরা ছোট ছোট কিছু কাজকে তুচ্ছ মনে করি, কিন্তু সেই ছোট ছোট প্রচেষ্টা কখনও কখনও অন্যের জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। মানুষের হাসি, ধন্যবাদ, এবং সামান্য আনন্দের মুহূর্তগুলো আজও আমাকে প্রেরণা দেয়।
আজও যখন আমি সেই সংগঠনগুলোর কথা ভাবি, সত্যিই ইচ্ছে হয় আবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমাজের জন্য কিছু করতে। মনে হয়, যদি সময় ফিরে পাওয়া যেত, আমি আরও বেশি করে অংশগ্রহণ করতাম, আরও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতাম। সামাজিক ও মানবিক কাজগুলো কেবল অন্যের জীবনে প্রভাব ফেলে না, বরং নিজের মানসিক ও নৈতিক বিকাশেও অপরিসীম অবদান রাখে। ছাত্রজীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে আজও স্মরণ করিয়ে দেয়, যে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নিজের সুখের পাশাপাশি অন্যের কল্যাণেও অংশ নেওয়া।
সত্যিই বলতে গেলে, সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনের জন্য অমূল্য। ছবিগুলো, স্মৃতিগুলো, এবং সেই সকল মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় আমাকে আজও প্রেরণা জোগায়, যেন আমি সমাজের জন্য কিছু করতে পারি। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ এই ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং সমাজকে আরও সুন্দর, মানবিক ও সহানুভূতিশীল করে তুলবে। কারণ শেষ পর্যন্ত, মানুষ হয়তো ভুলে যায় কতো বই পড়েছে বা কত পরীক্ষা পাস করেছে, কিন্তু সে কখনো ভুলবে না যে সে কারো জীবনে সুখ, শান্তি বা সহায়তার একটি ছোট আলো জ্বালিয়েছে।
লেখক: মোঃ হাফিজুল ইসলাম (সাতক্ষীরার সাংবাদিক)
মোঃ হাফিজুল ইসলাম 














